
নিজস্ব প্রতিবেদক
গো-খাদ্যের অর্থনৈতিক চাপ কমাতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পরিত্যাক্ত ও নিচু জমির পাশাপাশি সড়কের দুপাশে নেপিয়ার জাতের ঘাসের চাষ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন গো খাদ্যের চাহিদা মিটছে। অন্যদিকে কমে আসছে ফিডের নির্ভরতা এবং কমেছে খামারিদের গরু লালন-পালনের খরচও।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় বছরে ঘাসের চাহিদা ৮ লাখ ৩০হাজার ৭৪০ মেট্রিকটন। বছরে উৎপাদান হয় ১৮হাজার ১৮৬ দশমিক ১২৫ মেট্রিকটন। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৪ হাজার ৩৫ হেক্টর জমিতে ঘাস চাষ হয়েছে। অর্থাৎ চাহিদার তুলানায় ঘাস উৎপাদন অনেক কম। “সড়কের পাশে ঘাস চাষ করি, গো খাদ্যের অভাব দূর করি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রাণিপুষ্টির উন্নয়নে উন্নত জাতের ঘাস চাষ সম্প্রসারণ ও লাগসই প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকল্পের আওতায় সড়কের পাশে ঘাস চাষ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এতে খামারীদের ঘাসের কাটিং সংগ্রহ করে তা সরবরাহ করাসহ উদ্বুদ্ধ করছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল। ফুলবাড়ী উপজেলার পৌর এলাকাসহ ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের পাশে এই ঘাস চাষ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত সড়কের পাশে ৭ কিলোমাটার জায়গায় ঘাস চাষ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পের কমিউনিটি এক্সটেনশন এজেন্ট (সিইএ) মামুনুর রশিদ জানায়, ঘাসের উৎপাদন বাড়াতে ও প্রাণিপুষ্টির উন্নয়নে পতিত জমির পাশাপাশি সড়কের পাশে উন্নত জাতের ঘাস চাষে খামারিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পশুখাদ্যের মধ্যে গমের ভুষি,ধানের গুড়া, রাইস ব্রান, রেডি ফিড উল্লেখযোগ্য। এগুলোর দাম বেশি হওয়ায় খামারিরা কুলিয়ে উঠতে পারছে না। এছাড়া প্রাণিপুষ্টির উন্নয়নে ঘাসের বিকল্প নেই। কিন্তু আগের মতো দেশি ঘাস না পাওয়ায় উন্নত জাতের নেপিয়ার ঘাস চাষ হচ্ছে। খামারিদের পাশাপাশি বান্যিজিক ভাবেও অনেকে এ পদ্ধতিতে ঘাস চাষ করে লাভবান হচ্ছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পতিত জমির পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কের দুপাশে আগাছা পরিস্কার করে খামারীরা ঘাসের কাটিং লাগাচ্ছেন। কেউ ঘাস কাটছেন, কেউ আবার পরিচর্যা করছেন। উপজেলার গ্রামীন সড়ক, রেললাইন ও মহাসড়কের পাশেসহ পতিত জমিতে অনেকেই এ ঘাস চাষ করছেন।
বারকোনা গ্রামের রাস্তার পাশে ঘাস চাষকারী খামারি মো. সুমন ইসলাম ও খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের খিয়ারপাড়া গ্রামের মো. ছবেদ আলী জানান, জমি নেই তাই সড়কের পাশে জায়গা পরিষ্কার করে ঘাষ লাগাচ্ছেন। সড়কে ঘাস লাগাতে কেউ বাধা দেয়নি। এর আগেও কিছু ঘাস লাগিয়েছিলাম, কাটার পর দেখলাম নিজেদের পশু খাদ্যের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করে ভালো লাভ হচ্ছে। আমাদের দেখে এখন অনেকেই এই ঘাস চাষ করছে।
স্থানীয়রা জানান, যে হারে খামার গড়ে উঠেছে, সেই অনুযায়ী পশুখাদ্যের দেশীয় ভাণ্ডার নেই। কৃষি জমির ওপর দালান কোঠা, বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ার কারনে দিনদিন আবাদী জমি কমে আসছে। এতে পশুপ্রাণীর ওপর প্রভাব পড়েছে। এখন কম জমিতে অধিক ফলন, আর পরিকল্পিত খামার গড়ার কথা চিন্তা করতে হবে। কোনো জমি ফাঁকা রাখা যাবে না। সেদিক থেকে সড়কের পাশে ঘাস চাষ লাভজনক এবং ভালো উদ্যোগ। অনেক খামারির জমি নেই তারাও সড়কের ঢালে ঘাস চাষ করে নিজেদের পশুপ্রাণীকে খাওয়াচ্ছেন, বিক্রিও করছেন। এতে একদিকে গো খাদ্যের চাহিদা পুরন হচ্ছে। অন্যদিকে খরচও কমছে তাদের।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সাবেক) ড. রবিউল ইসলাম বলেন, প্রাণিপুষ্টির উন্নয়নে উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে সড়কের পাশে ঘাস চাষে খামারিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। বর্তমানে অন্যন্য পশু খাদ্যের দাম বেশি। অনেকের জমি নেই তারাও এ পদ্ধতিতে ঘাস চাষ করে গো খাদ্যের চাহিদা পুরণ করছে, এতে খামারিদেরও খরচ বাচছে । পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করেও বাড়তি আয় করছে। তিনি বলেন, কিটনাশক ও বিষ মুক্ত সবুজ ঘাস পশু খাদ্যের জন্য অত্যন্ত উপযোগী এবং পুষ্টিকর খাবার।