
সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার আলু রোপন মৌসুমে দেখা দিয়েছে বীজ ও সার সংকট। উপজেলার ইদিলপুর, ধাপেরহাট, ফরিদপুর, ভাতগ্রাম ও খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নে তুলনামূলক ভাবে আগাম ও মৌসুম অনুযায়ী আলু বেশি হয় ।উপজেলায় ব্যাপক হারে চাষ হয়েছে আগাম জাতের আলু। বর্তমানে উপজেলার কৃষকরা আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে। কিন্তু আলু চাষ করতে গিয়ে দেখা দিয়েছে উচ্চ ফলনশীল বীজ আলুর সংকট।সাধারণ বীজ আলু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০থেকে ৮৫ টাকায়। সেখানে উচ্চ ফলনশীল এ্যারোস্টিক জাতের বীজ আলু ১১০ থেকে ১২০ টাকাতেও মিলছে না। আলুর জনপ্রিয় উচ্চ ফলনশীল জাতগুলো হলো ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, গ্রানোলা, এসটারিক্স কারেজ, এলুয়েট, ভ্যালে নসিয়া, সানসাইন, লেভান্তে মিউজিকা ইত্যাদি।
কৃষক খায়রুল জয়নাল রুস্তমসহ অনেকে আক্ষেপ করে জানায় আমরা যখন আলু বিক্রি করি তখন কেজিপ্রতি দাম থাকে ১৫ থেকে ২০ টাকা। সেই আলু বর্তমানে ৮০-৮৫ টাকা করে কিনতে হচ্ছে তার পরেও চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। আলু উৎপাদনের পর ও আলু রোপনের সময় আলু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সংকট তৈরি করে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে বীজ আলুর দাম নির্ধারণ থাকলেও বাজারে সেই দামে পাওয়া যাচ্ছে না বীজ আলু । ভাল বীজ রোপন না করলে ফলন ভালো হয় না। বীজ আলু সঠিক সময়ে না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষক। অপর দিকে আলু রোপন কালে প্রতি শতাংশ জমিতে জৈব সারের পাশাপাশি ৫ থেকে ৬ কেজি রাসায়নিক সার প্রয়োগ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। রাসায়নিক সারের মধ্যে ফসফেট(টিএসপি) ও পটাশ(এমওপি) সার জমিতে আলু রোপনের পূর্বে চাষের সাথে দিতে হয়। কিন্তু বর্তমানে ডিলারা এই দু ধরনের সার দিতে পারছে না। বর্তমানে সরকার নির্ধারিত মূল্যে রাসায়নিক সার পাচ্ছি না। এমনকি বাড়তি দামেও ও মিলছে না। ডিলারদের কাছে গেলে তার বলছে,সার নেই। তারা কৃষকদের সরাসরি কোন সার দিচ্ছে না, খুচরা দোকানিরা বেশী দামে বিক্রি করছে। বেশি দামে সার ক্রয় করা হলেও রশিদ দিচ্ছে না। বর্তমানে সরকারি রেট কত তাও বলছে না। ধাপেরহাট ইউনিয়নের সার ডিলার সবুজ সার বিতানের স্বত্বাধিকারী শফিয়ার রহমান বেশি দামে বিক্রি কথা অস্বীকার করে বলেন, টিএসপি সারের বরাদ্দ কম ডিএপি সার আছে কিন্তু কৃষক তা নেয় না। সাদুল্লাপুরের দুই ইউনিয়ন ও রংপুর পীরগঞ্জের দুই ইউনিয়ন যে পরিমাণ সারের প্রয়োজন সেই পরিমাণ বরাদ্দ নেই।
সরকারি ভাবে সার আমদানি বিলম্ব হওয়ায় এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তার পরেও আমরা বাহির থেকে সংগ্রহ করে চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছি। শীতকালীন রবিশস্য এ অঞ্চলে বেশী হয় তাই চাহিদাও বেশী। ইচ্ছে করলে কর্তৃপক্ষ সমাধান করতে পারে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মতিউল আলম সার সংকট সম্পর্কে বলেন, এ বছর উপজেলায় ২২৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে এ বছর আলু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। তবে উচ্চ ফলনশীল আলু বীজের কিছুটা সংকটের বিষয়টি জেনেছি। সারের বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে।