
হিলি প্রতিনিধি
দিনাজপুরের হাকিমপুরে মুঠোফোনে সম্পর্ক তৈরি হয়ে বিয়ের আশ্বাস ও প্রলোভন দেখিয়ে বিবাহিত নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক এবং প্রতারণার অভিযোগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাফিউল ইসলামকে (৩৯) পুলিশ আটক করেছে থানা পুলিশ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর হাকিমপুর প্রাণিসম্পদ অফিস চত্বর থেকে মোটরসাইকেলে চারমাথা দিকে আসার পথে হিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানান থানার এসআই মো. মাহফুজ রহমান।
ডাঃ শাফিউল ইসলাম রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার জারুল্যা গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে ভেটেরিনারি সার্জন ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
ভুক্তভোগী নারী হাকিমপুর উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের মনশাপুর গ্রামের সাজ্জাদুজ জামান (সাহেব আলীর) মেয়ে সানজিদা বেগম (২৬)।
গত ৬-৭ বছর পূর্বে একই ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামে তার বিয়ে হয়। তার স্বামী মো. ওহেদুল ইসলাম হিলি পানামা পোর্টে চাকরি করতেন এবং সংসার জীবনে সানজিদা বেগমের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন।
বিষয়টি মুঠোফোনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. জাকির হোসেন নিশ্চিত করেন।
এসআই মো. মাহফুজ রহমান ডাঃ শাফিউল ইসলাম কে গ্রেফতার বিষয়ে বলেন, ভুক্তভোগী নারী ৩ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন এবং মমলা রুজু হয়। হাকিমপুর থানা মামলা নং ৫। এর ভিত্তিতে ওই দিন সন্ধ্যার পরে হিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে অভিযুক্ত ডাঃ শাফিউল ইসলাম কে গ্রেফতার করা হয়। এবং বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ভিকটিমকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তার স্বামী মো. ওহেদুল ইসলাম (৪০) অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার জন্য পরিচয় ঘটে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে মোবাইল ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ও ম্যাসেঞ্জারে তাদের কথাবার্তা ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়েছে,অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এবং বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এসব সম্পর্ক বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সরকারি কোয়ার্টারে ঘটে। পরে ভুক্তভোগী জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তা তাকে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য চাপ দেয়।
ভুক্তভোগী অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তিনি স্বামীকে তালাক দেন। পরে ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন এবং একই দিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এরপরও তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক চলে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী পোস্ট অফিসের নোটিশের মাধ্যমে জানতে পারেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাকে তালাক দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শুক্রবার সকালে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য হাকিমপুর থেকে বিরামপুর যাচ্ছিলেন। এসময় হাকিমপুর পৌরসভার চারমাথা মোড়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ফোন করে তাকে অফিসে আসতে বলেন। সকাল আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে ভুক্তভোগী হাকিমপুর পৌরসভার মধ্য বাসুদেবপুর গ্রামস্থ (শান্তির মোড়) উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস ও পশু হাসপাতালের সামনে গেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তাকে অফিস কক্ষে নিয়ে যান।
সেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা পুনরায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে ওই দিন ভুক্তভোগী বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
হাকিমপুর থানার এসআই মো. মাহফুজ রহমান জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আজ শনিবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটক কর্মকর্তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।