বৃহস্পতিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৩ দিন পর কাটা মাথা উদ্ধারসহ হত্যার রহস্য উন্মোচন

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মাথা বিহীন দ্বিখন্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ২৩ দিন পর মরদেহের বিচ্ছিন্ন মস্তক উদ্ধারসহ চাঞ্চল্যকর সাব্বির হোসেন সবুজ (২৫) হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। বাড়ির কাজের লোকের কোঁদালের আঘাতে সবুজের মৃত্যু হয় বলে জানায় পুলিশ। পরে লাশ গুম করতে গলা থেকে মাথা ও কোমর থেকে পা বিচ্ছিন্ন করে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ফেলা হয়। এঘটনায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর গলা থেকে কোমর এবং কোমর থেকে বিচ্ছিন্ন পা একটি জলাশয়ে উদ্ধার হলেও মাথা খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিহত সাব্বির হোসেন সবুজ উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের মৃত ইবনে সাউদ সরকার এর ছেলে। আজ শনিবার সকাল ১০টায় ফুলবাড়ী থানা চত্বরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।

সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিং এ দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন জানান, সাব্বির হোসেন সবুজ গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হয়। এ সংক্রান্ত থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়। এর প্রেক্ষিতে তাকে আমরা খুঁজতে থাকি।
ঘটনায় যা জানা যায়, আব্দুর হামেদ ২০০৫ সাল থেকে সবুজদের বাড়িতে কাজ করে আসছে। ঘটনারদিন গত (২৩ সেপ্টেম্বর) সবুজ তাদের একটি ঘাসের জমিতে আগাছা পরিষ্কার করার জন্য হামেদকে ডেকে নিয়ে যায়। জমির আগাছা পরিষ্কার করার সময় দুজনের মাঝে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সবুজের মাথায় কোঁদাল দিয়ে আঘাত করে হামেদ। এতে সবুজ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে মৃতদেহ লুকানোর জন্য হামেদ প্রথমে ঘাস দিয়ে মরদেহটি ঢেকে রাখে, এরপর মরদেহটি পাশের একটি পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে রাখে। এরপর বাড়ি থেকে একটি হাসুয়া (দা) এনে মরদেহটি তিন টুকরো করে উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের অনাবাদী একটি ধান খেতের ডোবায় বস্তায় ভরে পানির নিচে মরদেহের দুটো টুকরো ডুবিয়ে রাখে এবং মাথাটি পাশের একটি বরেন্দ্র গভীর নলকুপের পাইপের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়।
পুলিশ সুপার বলেন, রিমান্ডে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে আটককৃত আব্দুর হামেদ। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনা স্থল থেকে মস্তকসহ হত্যায় ব্যবহৃত হাসুয়া ও কোঁদাল উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে এ ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে।
জানাগেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে আটপুকুরহাট ব্যাংকে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি বের হয়ে যায় সবুজ। এরপর আর বাড়ি ফিরে আসেনি সে। পরবর্তীতে বাড়ির লোকজন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তার কোন সন্ধান না পেয়ে পরেরদিন ফুলবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন সবুজের ছোট ভাই সাদেক হাসান সজিব।
এরপর গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের একটি ধান খেতের ডোবা থেকে মাথা বিহীন দ্বি-খন্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের লোকজন শরীরের একটি বিশেষ চিহ্ন দেখে মরদেহটি সাব্বির হোসেন সবুজের বলে সনাক্ত করে।
এ ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিহতের ছোট ভাই সাদেক হাসান সজিব বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামী করে ফুলবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার সূত্র ধরে থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ওই রাতেই ৫ জনকে গ্রেফতার করে। আটককৃতদের মধ্যে মামলার ৬ নাম্বার আসামী উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের মৃত আব্দুর জব্বারের ছেলে মো. আব্দুর হামেদ (৫২) কে তিন দিনের রিমান্ডে থানায় নিয়ে আসে। রিমান্ডের দুদিনের মাথায় শনিবার (১৮ অক্টোবর) ওই আসামীর দেয়া তথ্য মোতাবেক ঘটনা স্থলের একটি গভীর নলকুপের পাইপের ভেতর থেকে মরদেহের বিচ্ছিন্ন মস্তকটি উদ্ধার করে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This