মঙ্গলবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৭৩ বছর বয়সেও আনাজি-কালো কচু সংগ্রহ করে সংসার চালান রিয়াজ উদ্দীন

বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
৭৩ বছর বয়সী রিয়াজ উদ্দীন। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও থেমে নেই তার জীবন সংগ্রাম। সংসার জীবনে কোন ছেলে মেয়ে না থাকায় জীবিকার দায় একাই বহন করছেন তিনি। ৭০ বছর বয়সী স্ত্রী আরজিনা বেগম স্বামীকে জীবিকার কাজে সহায়তা করতে না পারলেও সংসারকে পরিপাটি করে আগলে রেখেছেন।
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ১নং নাফানগর ইউনিয়নের বড় সুলতানপুর গ্রামের ছোট একটি টিনের আবাসনের বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দীন। দুঃখ দুর্দশায় এই ঘরেই বসবাস এই বৃদ্ধ দম্পতির। সংসারে অভাব অনটন থাকলেও চক্ষু লজ্জায় কারো কাছে হাত পাতেন না তারা। শরীরে সামর্থ্য আর মনোবল দিয়েই পরিশ্রম করে উপার্জন করেন।
গতকাল সোমবার দুপুরে দেখা যায়, উপজেলার ২নং ইশানিয়া ইউনিয়নের মুরারীপুর বাজারের ঝোপঝাড় ঘুরে আনাজি ও কালো কচু সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন রিয়াজ উদ্দীন। প্রতিদিন ভোরের ফজরের নামাজের পর তিনি বের হন গ্রামে, নদীর পাড় এবং ঝোপঝাড় ঘুরে কচু সংগ্রহ করতে। বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়েই চলে সংসার। এই একাকী পরিশ্রমে প্রতিদিনের জীবন জড়িয়ে থাকে ধৈর্য, শ্রম এবং মর্যাদার গল্পে।
রিয়াজ উদ্দীন বলেন, ভোরে নামাজ পড়ে বের হই। সারাদিন কচু সংগ্রহ করি। বিভিন্ন হাটের সবজী দোকানে পাইকারী বিক্রি করলে ৩৫০-৪০০ টাকা পাই। এই দিয়েই চলে আমাদের সংসার।
বাঁশঝাড় আর নদীর তীরের দুর্গম পথ। শীত, গরম বা বর্ষা-কোনো মৌসুমেই ছাড় দেন না। প্রতিটি কচুর গাছ সংগ্রহে লাগে শ্রম, সময় এবং সতর্কতার নিখুঁত হিসাব। একাই এই যাত্রা- সাহায্য করার মত কেউ নেই তার। বয়সের জীর্ণতা সত্ত্বেও মনোবল ও পরিশ্রমের দিক থেকে এখনও যেন টগবগে যুবক। গ্রামবাসীদের চোখে রিয়াজ উদ্দীন একজন নীরব যোদ্ধা। তার জীবন সংগ্রাম শুধু বেঁচে থাকার লড়াই নয়; এটি গ্রামীণ জীবনের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, যেখানে প্রতিটি শ্রমিকের মর্যাদা ফুটে ওঠে।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও রিয়াজ উদ্দীনের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়-জীবন চলতে থাকে আশায়, পরিশ্রমে এবং আত্মসম্মানে। তার একাকী জীবন সংগ্রাম আমাদের শেখায়, মানুষের নীরব শক্তি কখনো ক্ষয় হয় না।

Share This

COMMENTS