বৃহস্পতিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হাকিমপুর পৌর ভূমি অফিসে সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানির অভিযোগ

হিলি প্রতিনিধি
দিনাজপুরের হাকিমপুর পৌর ভূমি অফিসে সেবা প্রত্যাশীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। তাদের অভিযোগ,কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলা, দীর্ঘ সূত্রিতা ও পৌর তহশিলদারের দ্বায়িত্ব অবহেলার কারণে একটি সাধারণ কাজও শেষ করতে মাসের পর মাস ঘুরতে হচ্ছে পৌর ভূমি অফিসে।
ভুক্তভোগী আনিছুর রহমান বলেন, ভূমি অফিসে কোনো কাজ করতে গেলেই ঘুরপাক খেতে হয়। একটি সাধারণ কাগজ তুলতেও দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। প্রতিবার ভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
আর এক ভুক্তভোগী মো. ইমদাদুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, জমির খাজনা দিতে গেলেও নানা অজুহাতে কাজ হয় না। কখনো বলা হয় ফাইল নেই, কখনো কর্মকর্তা নেই।
ক্ষোভ প্রকাশ করে মোছা. উম্মে খাতুন বৃষ্টি বলেন, খাজনা নেই কিন্তু আমার নাম জারির করে দেয়না বেশ কিছু দিন ধরে। ইচ্ছে করেই মানুষকে হয়রানি করা হয়। তহশিলদার নিজে কম্পিউটার চালাতে পারেন না, বাইরে থেকে লোক এনে কাজ করান। এতে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। এখন আমাদের দরকার প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পূর্ণ আধুনিক তহশিলদার,যিনি দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা দিতে পারবেন।
মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ভূমি অফিসে সঠিক তথ্য না দেওয়ায় সাধারণ মানুষ দালালের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হচ্ছেন। আমি তার নামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। মনে হয় তার হাত অনেক লম্বা।
মো. মোলায়েম হোসেন বলেন, আমার সব অনলাইন খারিজ ও খাজনা পরিশোধ করা আছে। তবুও নানা অজুহাতে কাজ শেষ হয় না। রাতের বেলায় তদন্তের নামে কাজ করা হয়, যা সন্দেহজনক।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহিদা বেগম বলেন, চারবার খারিজের আবেদন করেছি। প্রতিবারই আমার আবেদন বাতিল করা হয়েছে। অথচ একই দাগের অন্যদের খারিজ হয়ে যাচ্ছে। মনে হয় ইচ্ছে করেই আমাকে হয়রানি করছে তহশিলদার।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে হাকিমপুর পৌর তহশিলদার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ভূমি অফিসে প্রচুর কাজের চাপ থাকে। আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করি। কাউকে হয়রানি করার কোন সুযোগ নেই।
এবিষয়ে নবাগত হাকিমপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো সাব্বির হোসেন বলেন, পৌর তহশিলদারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। তবে যদি লিখিত অভিযোগ পাই তা অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জানে আলম মুঠোফোনে জানান, জনগণকে সেবা দেওয়াই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপর দিকে ভুক্তভোগীদের দাবি, ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট সেবা চালু না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ হবে না।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This