৭ দফা দাবিতে বড়পুকুরিয়া খনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন


নিজস্ব প্রতিবেদক
“মানব জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নয়, উন্নয়নের নামে ধ্বংস নয়, টেকশই সমাধান চাই” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ক্ষতিপূরণসহ ৭ দফা দাবিতে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পাতিগ্রাম ও পাঁচঘরিয়া গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন।
আজ বুধবার বেলা ১১টায় ‘বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ক্ষতিগ্রস্তদের ভূমি ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটির উদ্যোগে স্থানীয় পাতিগ্রাম মোড়ে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিলটি নিয়ে বড়পুকুরিয়া বাজার প্রদক্ষিণ করে। পরে সেখানে সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন দাবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন হতে দাঁড়িয়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা।
এ সময় তারা ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানান। দাবি গুলো হলো, খনি ভুগর্ভে কয়লা তোলার সময় বিস্ফোরনে অতি মাত্রায় কম্পোনের কারণে ভূমি দেবে যাওয়ায় আমরা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছি। ফাটলকৃত বসতবাড়ীর বিষয়ে খনি কর্তৃপক্ষের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহন বাস্তবায়ন চাই? জনসাধারণের চলাচলের জন্য খনি এলাকার বাইপাস রাস্তাটি পূর্ন মেরামত করতে হবে। সমঝতা চুক্তি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার ঘর ঘর স্থায়ী চাকুরী চাই। পূর্বের অধিগ্রহনেকৃত মসজিদ গুলোর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার বাহিরে নতুন করে পানি সংকট দেখা দিয়েছে, সেজন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে। সেইসাথে ঘড়বাড়ীসহ স্থাপনার ফাটল পরিদর্শন করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি আদায় ভূমি ও বসত রক্ষা কমিটির সভাপতি মোঃ মতিয়ার রহমান, ইউপি সদস্য আ. কাদের, সাগির ইসলাম, আকাশ মাহমুদ, ফরাহাদ হোসেন প্রমুখ।
এ সময় সংগঠনের অনন্য সদস্যরাসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ২টি গ্রামের সহস্রাধিক নারী পুরুষ ও শিশু কিশোররা অংশ গ্রহণ করেন। ক্ষতিগ্রস্ত বক্তারা বলেন, খনি এলাকা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। বর্তমানে বাড়ি-ঘরে ফাটলসহ কাঁপুনির কারণে রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারছি না। প্রতি মুহূর্তে সামনে বিপদ দেখছি। ঝুঁকিপূর্ণভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছি। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমরা অধিকার আদায়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসলেও কোন পতিকার মিলছে না। তারা আরও বলেন, খনি কর্তৃপক্ষ আমাদের ক্ষতিপুরনসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে, ভবিষ্যতে খনি ঘেরাওসহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বিষয়টি নিয়ে মুঠো ফোনে কথা বললে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু তালেব ফরাজি জানান, ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা গুলো সার্ভে করার জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞ,চাইনিজ এবং বাংলাদেশিসহ একটি টিম রয়েছে। তারা প্রতি মাসে সার্ভে করে রিপোর্ট জমা দেন। ইতমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার ১৩টি গ্রামের সার্ভের কাজ শেষ হয়েছে। সার্ভে রিপোর্ট জমা দিলে সেগুলো উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। যদি তারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে তবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
