বৃহস্পতিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পীরগঞ্জে দাদীকে হত্যার অভিযোগে নাতি আটক

পীরগঞ্জ (রংপুর ) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগঞ্জে দাদীকে হত্যার অভিযোগে নাতি অনিক হাসান হৃদয় (২০) কে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গত রোববার গভীর রাতে ঢাকা সাভারের হেমায়েতপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে বড়ঘোলা গ্রামের রাশেদুল ইসলামের ছেলে। আটক হৃদয়ের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দীতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি আজ সোমবার সকালে বড় মজিদপুরের রফিকুলের পরিত্যাক্ত রাইস মিল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার ভোররাতে উপজেলার বড় মজিদপুর থেকে আকলিমা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহত বৃদ্ধা আকলিমা বেগম ওই গ্রামের আব্দুল হাকিম মিয়ার স্ত্রী। ওই দিনই অজ্ঞাতনামা আসামী করে নিহতের ভাই রায়পুর ইউপির নখারপাড়ার ওবায়দুল হত্যা মামলা রুজু করেন।
স্বজরা জানান, বর্ণিত গ্রামে স্বামী-স্ত্রী দুজনে পৃথক ঘরে রাত্রি যাপন করত। শনিবার ভোর রাতের দিকে নিহতের স্বামী আব্দুল হাকিম প্রকৃতির ডাকে সারা দিয়ে ঘরের বাহিরে আসলে স্ত্রীর ঘরের দরজা খোলা দেখতে পায়। তিনি ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে গলা কাটা অবস্থায় স্ত্রীর নিথর দেহ খাটের উপরে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকেন। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। খবর পেয়ে দু’ছেলে রাশেদুল ও শাহিন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। নিহতের দু’ছেলে রাশেদুল ও শাহিন জানান, তারা রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় ঘোলা গ্রামের বাসিন্দা। ৮/১০ বছর আগে বড় মজিদপুরে পৃথক বাড়ি করেন। বাবা-মা সেখানেই বসবাস করেন। আমরা বাস্তুভিটা বড়ঘোলায় দু’ভাই বসবাস করি। ছোট বোন পারভিন আক্তার বৈবাহিক সুত্রে স্বামীর বাড়ি পীরগঞ্জ সদরের রামপুরায় থাকে। কারো সাথে আমাদের কোন বিরোধ নেই। বাবা-মা ছাড়া ওই বাড়িতে আর কেউ থাকে না।
পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত হৃদয় নিহত আকলিমা বেগমের নাতি, বড় ছেলে রাশেদুল ইসলামের ছেলে। হৃদয় শুক্রবার রাত ১টার দিকে ঢাকা থেকে দাদা-দাদীর গ্রামে আসে। দাদী আকলিমার সাথে রাতের খাবারের পর খোশগল্পের এক পর্যায়ে তর্কে জড়িয়ে পড়লে দাদিকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This