ফুলবাড়ীতে মৃত্যু সনদ চাইতে গিয়ে গ্রাম পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত এক স্কুল শিক্ষক


নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মামার মৃত্যু সনদ তুলতে গিয়ে গ্রাম পুলিশের হাতে শারিরিক ভাবে লাঞ্ছিতের শিকার হয়েছেন অজিত কুমার মন্ডল নামে এক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
এ অপৃতিকর ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ২নম্বর আলাদিপুর ইউনিয়নে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষক সোমবার দুপুরে ওই গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষক অজিত কুমার কুরমুট গ্রামের মৃত্যু অমূল্য চন্দ্রর ছেলে ও কুরমুট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
ভুক্তভোগি শিক্ষক অজিত কুমার মন্ডল বলেন, গত ১৫ অক্টোবর তার নানীর পালিতপুত্র তার মামা অনন্ত কুমার অসুস্থ জনিত কারনে মৃত্যুবরন করেন। এরপর গত ১৯ অক্টোর তার মামার মৃত্যু সনদ নেয়ার জন্য আলাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যলয়ে যান। কিন্তু মৃত্যু সনদ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়াডের ইউপি সদস্য সুপারিশ করলে অদৃশ্য কারনে তথ্য সংগ্রকারী ওই ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মঞ্জুরুল ইসলাম স্বাক্ষর না করে, টালবাহনা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। শতানুরোধ করেও ওই গ্রাম পুলিশ মঞ্জুরুল ইসলাম স্বাক্ষর না করায় বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেন। এতে গ্রামপুলিশ মঞ্জুরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে ইউনিয়ন কার্যালয় থেকে বের করে দেন।
ভুক্তভুগী শিক্ষক অজিত কুমার অভিযোগ করে বলেন, তাকে লাঞ্ছিত করে গ্রাম পুলিশ মঞ্জুরুল ইসলাম চড় থাপ্পর কিলঘুষি মারলেও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নাজমুস সাখির বাবলু কোন প্রতিকার করেননি। এমনকি তার নিকট মৌখিক ভাবে অভিযোগ করলেও তিনি কর্নপাত করেননি। এ কারনে আজ সোমবার তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক আব্দুল আলিম, শিক্ষক অজিতকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাটির তিব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এর সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে এ ঘটনার পর থেকে গ্রাম পুলিশ মঞ্জুরুল ইসলাম ও ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুস সাখির বাবলুর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ইউনিয়ন অফিসে গিয়েও তাদের দেখা পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসাহাক আলী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন।
