সোমবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

হিলি বন্দর দিয়ে আসলো সোয়া দুই লাখ টন চাল, আমদানির সময় শেষ হচ্ছে পরশু

হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুই লাখ চব্বিশ হাজার চারশত মেট্রিকটন চাল দেশে আমদানি করা হয়েছে। গত চার মাসে ভারত থেকে সেদ্ধ ও আতপ এই দুই ধরণের চাল আমদানি করা হয়। যা আগামী রোববার (৩০ নভেম্বর) ভারত থেকে চাল আমদানির সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এদিকে ভারত থেকে চাল আমদানি হওয়ায় দেশের বাজারে এবার চালের দাম নিয়ে কোন অস্থিরতা দেখা যায়নি।
গতকাল বৃহস্পতিবার হিলি স্থলবন্দরের চালের মোকাম ঘুরে দেখা গেছে, আমদানি করা ভারতীয় স্বর্না-৫ জাতের চাল ৪৭-৪৮ টাকা এবং শম্পা জাতের চাল ৬১-৬৪ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে হিলির খুচরা বাজারে আমদানি করা ভারতীয় স্বর্না-৫ জাতের চাল ৪৮-৫০ টাকায় এবং শম্পা জাতের চাল ৬৬-৬৮ টাকা দরে খুচরা বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশিয় স্বর্না-জাতের নতুন ধানের চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৭-৪৮ টাকা কেজিতে। এখনো পুরোপুরি আমন ধানের চাল বাজারে আসেনি।
হিলি বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা পলাশ কুমার বসাক জানান, ভারত থেকে চাল আমদানি হওয়ার পর থেকে চালের দাম কমে এসেছে। সব ধরণের চাল প্রতি কেজিতে অন্তত ৩-৪ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি হওয়ার আগে চালের দাম বেশি ছিল। নতুন ধানের চাল বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম আরও কমে আসবে। তাতে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করতে হবে না।
হিলি বন্দরের প্রসিদ্ধ চাল আমদানিকারক ললিত কেশরা জানান, সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে আমরা আমদানিকারকরা ভারত থেকে চাল আমদানি অব্যাহত রেখেছি। দেশে চালের দাম যেন বৃদ্ধি না পাই সেজন্য আমদানি করে বাজার স্বাভাবিক রাখতে সেই প্রচেষ্টা আমরা করছি। আমদানিকৃত চাল বিক্রিতে অনেক সময় আমাদের লোকসানও গুনতে হয়েছে। বর্তমানে দেশে চালের দাম নিয়ে এবার ভোক্তাদের মাঝে কোন অস্থিরতা তৈরী হয়নি।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি বছরের ১২ আগস্ট থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৬,১৮০টি ভারতীয় ট্রাকের মাধ্যমে দুই লাখ চব্বিশ হাজার চারশত মেট্রিকটন ৩৯০ কেজি সেদ্ধ ও আতপ চাল দেশে আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে আতপ চালের পরিমান দুই হাজার মেট্রিকটনের কম। বর্তমানে এই বন্দরের মাধ্যমে দেশে চাল আমদানি অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা (আর ও) মো. তারেক আজিজ জানান, দেশে চালের দাম সহনীয় রাখতে সরকার আমদানি করার অনুমতি দেয়। ফলে গত ১২ আগস্ট থেকে দেশে চাল আমদানি হচ্ছে। এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে এসব চাল আমদানি করা হচ্ছে। আগামী পরশু রোববার (৩০ নভেম্বর) পর্যন্ত চাল আমদানির সময়সীমা রয়েছে। এরপর সরকার অনুমতি না দিলে চাল আমদানি বন্ধ থাকবে। তবে এখনো পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোন চিঠি আমাদের কাছে আসেনি।
তিনি আরও জানান, চাল আমদানি শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত আমরা দ্রুততার সাথে শুল্কায়ণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে ছাড়করণে ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছি। যাতে করে আমদানির পর ব্যবসায়ীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাজারে চাল সরবরাহ করতে পারেন। চাল আমদানিতে শুল্ক নেই। তবে দুই শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) দিয়ে ব্যবসায়ীরা বন্দরের কাস্টমস থেকে এসব চালের চালান খালাস করতে পারছেন।
হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারি মো. ইউসুফ আলী জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইং থেকে আমদানিকারকরা ভারত থেকে চাল আমদানিতে আইপি (অনুমতি) পান। এই পর্যন্ত আমদানিকারকরা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দেশে বিপুল পরিমাণে চাল আমদানি করেছেন। আমদানি করা চাল দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ১ ডিসেম্বর থেকে দেশে চাল আমদানি করা যাবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এই নির্দেশনা বলবত রয়েছে। নতুন করে যদি অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে আমদানিকারকরা ভারত থেকে চাল আমদানি করতে পারবেন।

Share This