বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বীরগঞ্জে গভীর রাতে উষ্ণতা নিয়ে শীতার্তদের পাশে ইউএনও

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
উত্তরের হিমালয় থেকে নেমে আসা শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মানুষ। প্রায় ১০ দিন ধরে এই এলাকায় ব্যাপক শীত। মাঝেমধ্যে দিনে ২/৩ঘন্টা রোদ থাকলেও প্রায় সময় ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে জনজীবন হয়ে উঠেছে স্থবির। এই হাড়কাঁপানো শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, অসহায় বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা। কুয়াশার কারণে শিশুদের স্বাভাবিক চলাচল ও দৃষ্টিশক্তিও পড়েছে বিপাকে। এমন পরিস্থিতিতে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমা খাতুন।
গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে প্রায় প্রতিদিন রাতে কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে বীরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের গোধুলি বৃদ্ধাশ্রম, উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানা ও অলিগলি ঘুরে ঘুরে অসহায় মানুষ, খোলা আকাশের নিচে কিংবা জরাজীর্ণ ঘরে শুয়ে থাকা শতাধিক শীতার্ত মানুষ-কে নিজ হাতে কম্বল তুলে দেন তিনি।
রাতের কুয়াশার দাপটে যখন হাত বাড়ালেও সামনে কিছু দেখা যাচ্ছিল না, তখন ইউএনও সুমা খাতুন খুঁজে খুঁজে বের করেন শীত নিবারণের সামান্য সম্বলহীন মানুষগুলোকে। কারও ঘর নেই, কারও নেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র। এমন অসহায় অবস্থায় একটি কম্বল তাদের কাছে হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা। কখনও কাঁধে জড়িয়ে দিয়েছেন কম্বল, কখনও সযত্নে তুলে দিয়েছেন হাতে।
ইউএনওর এই মানবিক উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপকারভোগীরা।
তারা বলেন, এত গভীর রাতে একজন ইউএনও নিজে এসে আমাদের খোঁজ নেবেন, কম্বল দেবেন-এটা আমরা কল্পনাও করিনি। এই শীতে এই কম্বল আমাদের প্রাণ বাঁচাবে। স্থানীয়দের মতে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে-প্রশাসন মানেই শুধু ফাইল-কলম আর অফিসকক্ষ নয়; প্রশাসন হতে পারে বিপদে পড়া মানুষের সবচেয়ে কাছের আশ্রয়স্থল। এ বিষয়ে ইউএনও সুমা খাতুন বলেন, এই তীব্র শীতে কেউ যেন কষ্ট না পায়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক কাজ নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের মানবিক দায়বদ্ধতা।
হাড়কাঁপানো শীতের এই রাতে প্রশাসনের এমন সরাসরি উপস্থিতি অসহায় মানুষের মনে শুধু উষ্ণতা নয়, নতুন করে বেঁচে থাকার সাহসও জুগিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয়রা সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন-সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সবাই এগিয়ে এলে কোনো শীতার্ত মানুষকেই আর কষ্ট পেতে হবে না।

Share This