পীরগঞ্জে থামছেই না করতোয়া নদীর বালু উত্তোলন


পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগঞ্জে কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না করতোয়া নদীর বুক বালু উত্তোলন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুযোগে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বালু সিন্ডিকেটের সদস্যরা। প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খোলারও সাহস পাচ্ছে না। দিন রাত বালু পরিবহনের ফলে গ্রামীণ কাঁচা পাকা সড়কের বেহাল দশা। আসন্ন বর্ষা মওসুমে খানা খন্দে ভরা এসব ভাঙ্গা রাস্তায় চণাফেরা করাই দায় হয়ে উঠবে বলে এলাকাবাসীরা শঙ্কায় পড়েছে।
পীরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে চতরা, বড় আলমপুর এবং টুকুরিয়া ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে প্রবাহমান করতোয়া নদী। বালু খেকোদের কারণে নদীর নব্যতা হারিয়ে ফেলছে। টুকুরিয়া ইউনিয়নে ড. ওয়াজেদ সেতুর দক্ষিণ ও উত্তরে ৫ টি স্থানে দিনরাত বালু উত্তোলনের কাজ চলছে। এতে করে ব্রীজটির পিলারের নীচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ব্রীজটিও হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে। বড় আলমপুর ইউনিয়নের বাঁশপুকুরিয়া ও শাল পাড়া ঘাটে বড় ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রকাশে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছে বালু খেকোরা। একই ইউনিয়নের বানুর ঘাটেও একটি পয়েন্ট থেকে একই ভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে পার্শ্ববর্তী আবাদি জমি এবং ঘরবাড়ি। ভেঙেচুরে অচল হয়ে পড়েছে ওইসব এলাকার চলাচলের রাস্তা-ঘাট। এছাড়াও উপজেলার পূর্বাঞ্চলে পাঁচগাছী ইউনিয়নের নলেয়া নদীর কয়েকটি স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে গাড়ি যোগে বিক্রি করা হচ্ছে। এলাকাবাসীরা জানান, বালু পয়েন্ট থেকে দিনরাত বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে টুকুরিয়া এবং বড় আলমপুর ইউনিয়নের বালু পয়েন্টগুলোর আশপাশের রাস্তা দিয়ে বাইসাইকেল, ভ্যান, রিকশা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। সম্প্রতি একটি বালুর পয়েন্টে প্রশাসন হানা দিলেও পরের দিন থেকে বালু উত্তোলনকারীদের কর্মকাণ্ড আরো বেড়েছে। টুকুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, বড় নদী থেকে অবৈধ ভাবে ভেকু মেশিন দিয়ে বালু সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এতে করে নদী তার গতি পথ হারাতে বসেছে। অপরদিকে নদীর পার ভেঙে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে। বড় আলমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান সেলিম জানান, বাঁশপুকুরিয়া এলাকার দুটি বালুর পয়েন্ট জনগণের বেশি ক্ষতি করছে। বালুকারবারিদের নিয়মিত মামলা ও গাড়িগুলো আটক করলেই তাদের কর্মকান্ড কমতে পারে বলে উভয় চেয়ারম্যানরা দাবি করেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিন থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে গ্রামীণ কাঁচা পাকা সড়কের ব্যাপক ক্ষতিসহ স্কুল পড়ুয়া কোমলমতি শিশুরা স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। ধুলাবালির কারণে পথচারীদের শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ বাড়ছে। প্রশাসনের নাকের ডগার উপর দিয়ে দিনরাত লাইসেন্স বিহীন গাড়িগুলো প্রশিক্ষণ ছাড়া শিশু ড্রাইভার দিয়ে দিনরাত বালু বহন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এতে করে গ্রাম পল্লীতে প্রায়শই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পপি খাতুন জানান, অবৈধ বালুর পয়েন্টগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কাজ চলমান রয়েছে।
