শনিবার, ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পঞ্চগড়ে প্রিন্সিপালের বাড়িতে ডাকাতি: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৬

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকায় এক কলেজ অধ্যক্ষের বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় পঞ্চগড় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় দুইটার দিকে যুগিভিটা এলাকায় মফিজার রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল্লাহর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাত দল হামলা চালায়। অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে তারা আলমারি ও ঘরের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার (আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা), নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুট করে নেয়।
ঘটনার পরদিন পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৪ মার্চ গভীর রাতে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৫ মার্চ রাত দেড়টার দিকে যুগিভিটা এলাকার বাসিন্দা মো. আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আলমই এই ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী এবং তিনি ভুক্তভোগী নুরুল্লাহর প্রতিবেশী। জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি ডাকাতির পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আর্থিক সংকটের কারণে আলম ভুক্তভোগীর কাছে এক বিঘা জমি বর্গা চান। জমি না পাওয়ায় ক্ষোভ থেকে তিনি ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। পরে সহযোগী কামরুলের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার দুই দিন আগে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
ঘটনার রাতে ডাকাতরা বাড়ির একটি গ্রিলবিহীন জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। পরে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে পাঁচজন দুই দিনের পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং আলমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা সম্প্রতি সুপ্রিম টি ফ্যাক্টরি নামের একটি চা কারখানায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথাও স্বীকার করেছেন। সেই মামলাতেও তাদের শোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্য। তারা পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও জগদল এলাকায় একাধিক ডাকাতির সঙ্গে জড়িত।
এ ঘটনায় পলাতক কামরুল ও মনিরকে গ্রেপ্তার এবং বাকি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This

COMMENTS