সোমবার, ১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় বাবাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে আটক

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাইয়ে মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় বাবাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার পুনট ইউনিয়নের বফলগাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
নিহত আক্কাস আলী (৫৫) বফলগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। হামলায় আক্কাস আলীর স্ত্রী আবেদা বিবি ও মেয়ে সাবানা বেগম গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত ছেলের নাম গোলাপ হোসেন (৩২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন আগে আক্কাস আলী কয়েক শতক জমি বিক্রি করেন। সেই টাকা দিয়ে ছেলে গোলাপ বাবার কাছে একটি মোটরসাইকেলের আবদার করে। কিন্তু বাবা তাতে রাজি হননি। এর জের ধরে শনিবার ইফতারের আগে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে গোলাপ। প্রথমে বাঁশের গোড়ালি দিয়ে পরে দা ও চাকু দিয়ে সে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে বাবাকে। একপর্যায়ে আক্কাস আলী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মা আবেদা ও বোন সাবানা তাকে বাঁচাতে ছুটে আসেন। এসময় গোলাপ তাদের দুজনকেও বেধড়ক মারধর ও জখম করে। পরে তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে গোলাপকে আটক করে।
গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাদের বগুড়ায় স্থানান্তর করেন। বগুড়া নেওয়ার পথে মোকামতলা এলাকায় মারা যান আক্কাস আলী।
তবে স্থানীয়দের ভাষ্য কিছুটা ভিন্ন। প্রতিবেশী বাবলু হোসেনসহ কয়েকজন জানান, গোলাপ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছে। তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালেও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। কিছুদিন সুস্থ থাকার পর গত কয়েক দিন ধরে সে আবারও ভারসাম্যহীন আচরণ শুরু করে। এলাকায় সে ‘পাগল গোলাপ’ নামে পরিচিত।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত গোলাপকে গ্রেফতার করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মো. তুহিন রেজা।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This

COMMENTS