মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পহেলা বৈশাখে পঞ্চগড়ে সাড়ে তিন হাজার কৃষক পাচ্ছেন কৃষি কার্ড

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
বিএনপি সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী ইশতেহার দেশের কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা । ইতিমধ্যে সরকার আগামি পহেলা বৈশাখে প্রি পাইলটিংয়ের অংশ হিসেবে দেশের ১১টি উপজেলার কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরনের কার্যক্রম শুরু করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইল জেলায় উপস্থিত হয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। সেই ১১ টি উপজেলার মধ্যে পঞ্চগড়ের দুটি উপজেলাকে প্রি পাইলটিং কার্যক্রমের নির্বাচিত করা হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।
নির্বাচিত উপজেলা দুটি হচ্ছে পঞ্চগড়-১ আসনের পঞ্চগড় সদর উপজেলা এবং পঞ্চগড়-২ আসনের বোদা উপজেলা। এর মধ্যে সদর উপজেলা ধাক্কামারা ইউনিয়নে কমলাপুর ব্লকে ১৫৯২ জন কৃষক এবং বোদা উপজেলা পাঁচপীর ইউনিয়নের পাঁচপীর ব্লকে ১৯৬২ জন কৃষক সহ জেলায় ৩৫৫৪ জন প্রান্তিক কৃষক কৃষক কার্ডের আওতায় আসছেন । এরই মধ্যে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে ব্যাংক একাউন্টের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি বোদা উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই প্রি পাইলটিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কমলাপুর ব্লকে এবং বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের পাঁচপীর ব্লকে প্রকৃত কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কৃষি বিভাগের দিনাজপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রিয়াজউদ্দিন কমলাপুর ব্লক এরিয়া পরিদর্শন করে দুই উপজেলা কৃষি বিভাগককে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি গ্রহনের নির্দেশনা দিয়েছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সদর উপজেলা চলতি বছরের ১৬ মার্চ এবং বোদা উপজেলা ১৭ মার্চ নির্দেশনা পেয়ে কৃষি কার্ড প্রি পাইলটিং কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কৃষকদের কার্ড তৈরি করে দিতে কাজ শুরু করেন। পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আব্দুল মতিনের সার্বক্ষনিক মনিটরিং করছেন দুই উপজেলার এই প্রি পাইলটিং কার্যক্রম। কৃষি কার্ডের গুরুত্ব হচ্ছে এই কার্ডধারী ভূক্তভোগীরা ১০টি উপকার পাবেন। উপকারগুলোর মধ্যে- ন্যায্যমুল্যে কৃষি উপকরন ক্রয়, সরকারী ভূর্তকি, সরকারী প্রনোদনা, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋন, কৃষি বিমা সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপন্য বিক্রয়, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষন, আবহাওয়া তথ্য ও রোগবালাই দমনের পরামর্শ এছাড়াও এই কার্ডের আওতায় জমির পরিমান অনুযায়ী কৃষক সার ক্রয় করতে পারবেন। এতে কৃষি জমিতে অতিরিক্ত সারের ব্যবহার রোধ করা যাবে বলেও আশা করছেন কৃষি অধিদপ্তর।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুন্নবী জানান কৃষি কার্ড প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেস্টার ফল। এটি বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য সরকারের একটি যুগান্তকারী প্রদক্ষেপ কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষন কৃষি সহায়তা সহ কৃষকদের বিভিন্ন সরকারী প্রনোদনা কার্যক্রম কৃষকদের কাছে দ্রুত পৌছে দিতে কৃষক কার্ড গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে। কৃষকদের সরকারী সেবা দেওয়া সহজীকিকরন হবে।
বোদা উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা আহমেদ রাশেদ উন নবী জানান গত ১৯ মার্চ থেকে পাঁচপীর ব্লকে ১৯৬২ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করে ব্যাংক একাউন্ট সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামি ১৪ এপ্রিলের পূর্বে তালিকাভূক্ত কৃষকদে কৃষি কার্ড তৈরি সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This

COMMENTS