বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তাহলে ইরানে কি পারমাণবিক হামলা চালাতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

দেশ মা অনলাইন
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরে। ইরানকে লক্ষ্য করে দেওয়া তার কড়া হুমকির পর বিশ্বজুড়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই কি পারমাণবিক পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছে?
আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।” তার এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে রোববার ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেন। তিনি মঙ্গলবার রাত ৮টা (যুক্তরাষ্ট্র সময়) পর্যন্ত আলটিমেটাম দেন, যা বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বুধবার সকাল ৬টা।
সোমবার তিনি আরও কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানকে “এক রাতেই নিশ্চিহ্ন” করা হতে পারে।
যদিও ট্রাম্প সরাসরি “পারমাণবিক হামলা” শব্দটি ব্যবহার করেননি, তার বক্তব্যের তীব্রতা এবং “সম্পূর্ণ ধ্বংস” সংক্রান্ত ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ভাষা সাধারণত চরম সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়, যা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কাকেও উড়িয়ে দেয় না।
তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, যা পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনাকে নিশ্চিত করে।
ট্রাম্প তার পোস্টে আরও বলেন, “আমি চাই না এমনটা ঘটুক, কিন্তু হয়তো ঘটবে।” একই সঙ্গে তিনি ইরানে সম্ভাব্য শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন, যা ইঙ্গিত দেয়—এই হুমকির পেছনে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশলও থাকতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনিতেই সংবেদনশীল। ইরানকে ঘিরে যেকোনো বড় সামরিক পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা না গেলেও, ট্রাম্পের বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এখন সবার দৃষ্টি—এই হুমকি বাস্তবে রূপ নেয় কিনা, নাকি শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানই সামনে আসে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This

COMMENTS