বিধিসম্মত নিয়োগ না হওয়ায় ৪২ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে শিক্ষককে নির্দেশ


আক্কেলপুর(জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গনিপুর জাফরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে শাহীন মাহমুদের নিয়োগ বিধিসম্মত না হওয়ায় সরকারি অংশের বেতন-ভাতার ৪২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫০ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। তবে সেই নির্দেশ অমান্য করেছেন ওই সহকারী প্রধান শিক্ষক। অন্যদিকে নির্দেশনা জারির এক মাস অতিবাহিত হলেও সেই নির্দেশের অনুলিপি পাননি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট অধিকাংশরা।
জয়পুরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের চলতি বছরের ২ মার্চের ওই পত্র সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৪ মে ঐ এলাকার জনগণ সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহীন মাহমুদের নিয়োগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়। তদন্তে ওই শিক্ষকের নিয়োগ বিধি সম্মত না হওয়ায় সত্যতা মেলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি অংশের বেতন-ভাতার ৪২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসাথে ওই পত্রের অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, সাবেক প্রতিষ্ঠান প্রধান, আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এবং ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে প্রেরনের বিষয় উল্লেখ রয়েছে।
আরও জানা গেছে, ওই সহকারি প্রধান শিক্ষক পূর্বে আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি অভিযোগ ২০১০ সালের ২৭ নভেম্বর সাময়িক বরখাস্ত হন। এর পরে তিনি ২০১২ সালে পূর্বের প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়পত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজ না নিয়েই বিধি বহির্ভূতভাবে গনিপুর জাফরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন।
অভিযুক্ত সহকারী প্রধানশিক্ষক শাহীন মাহমুদ বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের ই-মেইলে পত্রটি দেওয়া হয়েছে। আমাকে পত্র নিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাঁর কাছে যেতে বলেছিলেন। ই-মেইলে ও তাঁর কাছে পাঠানো পত্র একই হওয়ায় সেটি নিতে যাইনি। সমস্যার সমাধানের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসের সাথে সমঝোতা হয়েছে। আমার নিয়োগ প্রক্রিয়া সঠিক রয়েছে।
আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোমিন বলেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে পত্র দিয়ে তলব করে শাহীন মাহমুদের অভিজ্ঞতা সনদ ও ছাড়পত্রের বিষয়ে জানতে চান। সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে প্রয়োজনীয় ১০ বছরের অভিজ্ঞতা পূর্ণ হওয়ার আগেই সাময়িক বরখাস্ত হওয়ায় তাঁকে কোনো অভিজ্ঞতা সনদ ও ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। এ তথ্য লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বেতন ফেরতের পত্রের কোনো অনুলিপি এখনো পাইনি।
তবে সেই পত্র প্রাপ্তির বিষয়টি মঙ্গলবার অস্বীকার করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল হাসান বলেন, এ সংক্রান্ত কোন চিঠি আমি পাইনি।
ওই সংক্রান্ত পত্র না পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ, ব্যাংক কর্মকর্তা, সাবেক প্রতিষ্ঠান আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা প্রশাসন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক সচেতন ব্যক্তি বলেন, জেলা শহর থেকে উপজেলায় একটি চিঠি আসতে এত দীর্ঘ সময় লাগে না। বিষয়টিকে হয়তো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা প্রকৃত অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই ।
আক্কেলপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এবং গনিপুর জাফরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আবিদা খানম বৈশাখী জানান, সেই সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।
ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন দাপ্তরিক কাজে বাহিরে থাকায় বিগত দুইদিন ধরে একাধিকবার মুঠোফোনে চেষ্টা করেও তাঁর কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ওই অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ জানান, শিক্ষা কর্মকর্তা ঢাকায় ট্রেনিংয়ে আছেন। অফিসে বিভিন্নজন ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্যার নিজেই দেখেন।
