রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজ ফুলবাড়ীর আঁখিরা গণহত্যা দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর আখিরা গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের (১৭ এপ্রিল) এই দিনে উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের বারাইহাট আঁখিরা নামক পুকুর পাড়ে পাকিস্থানি সেনাদের হাতে প্রাণ হারায় ভারতে আশ্রয় নিতে যাওয়া প্রায় দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু।
সেই সময়ের স্মৃতিচারন করে বীর মুক্তিযোদ্ধা এছার উদ্দিন বলেন, এই জায়গায় তখন গহিন জঙ্গল ছিল, পকুরটি অনেক বড় ছিল। এই পুকুর পাড়ে কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকার একসাথে প্রায় দুই থেকে আড়াইশ নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, যুবককে পাকিস্থনি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে। আমরা যুদ্ধচলাকালিন একসময় এখানে এসে সেসব মৃতদেহ ও কাংকাল আশে পাশের বিভিন্ন স্থানে সমাহিতকরি। অনেকের মাথার খুলি, হাড়-হাড্ডি বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকলে সেগুলো স্থানীয়দের মাধ্যমে এই আখিরা কুড়িতে সমাহিত করা হয়।
বীর মুক্তি যোদ্ধা আবুল কাশেম বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭এপ্রিল এই দিনে উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের বারাইহাট থেকে ২০০ গজ দক্ষিণে আঁখিরা নামক পুকুর পাড়ে পাকিস্থানি সেনাদের হাতে প্রাণ হারায় ভারতে আশ্রয় নিতে যাওয়া ফুলবাড়ী, নবাবগঞ্জ, পার্বতীপুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার ৫০টি পরিবারের প্রায় দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু। তাদেরকে ফুলবাড়ী সীমান্ত দিয়ে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সেই স্থানে নিয়ে আসে পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার (বর্তমান ফুলবাড়ী) রামচন্দ্রপুর গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকার। কিন্তু কেনান সরকার ঐ পরিবারগুলোকে ভারতে পৌঁছে না দিয়ে টাকা পয়সা, সোনা-গহনা লুট করে তুলে দেন ফুলবাড়ীতে অবস্থানরত খানসেনাদের হাতে। সকাল ১১টায় সকলকে এই পুকুর পাড়ে লাইন করে দাড়িয়ে রেখে স্টেনগানের ব্রাশ ফায়ার করে গুলি করে পাখির মতো হত্যা করে। তবে পরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার কেনান সরকার কে হত্যা করে।
তিনি বলেন, প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মৃতিচারণ ও দোয়ার মাধ্যদিয়ে দিবসটি পালন করা হলেও এবছর তেমন কোন আয়োজন নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাসান বলেন, নতুন এসেছেন তাই দিবসটির বিষয়ে তার জানা নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানবেন।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This

COMMENTS