পীরগঞ্জে উৎপাদিত ‘সানশাইন’ আলু যাচ্ছে মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে


পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় উৎপাদিত ‘সানশাইন’ জাতের আলু রপ্তানির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশ উত্তম কৃষি চর্চা (এঅচ) মানদণ্ড অনুসরণ করে উৎপাদিত এই আলু মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ের বাজারে পাঠানো হচ্ছে। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মওসুমে পার্টনার প্রোগ্রামের আওতায় পীরগঞ্জে ১৬টি উত্তম কৃষি চর্চা(এঅচ) ফিল্ড স্কুল ও একটি মডেল ফার্মের মাধ্যমে প্রায় ১৬০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে ‘সানশাইন’ জাতের আলুর চাষ হয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন উৎপাদন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সুমন আহমেদ জানান, পীরগঞ্জ থেকে প্রতি বছর নেপাল, ভুটান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আলু রপ্তানি হয়ে থাকে। চলতি বছরে হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের সহায়তায় মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে রপ্তানি কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। গত বুধবার উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের খেজমতপুর ব্লকের অংশীজন সংগঠনের সদস্য বেলাল প্রধানের খামার থেকে ২৬ মেট্রিক টন ‘সানশাইন’ আলু মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় থিংকস টু সাপ্লাই এবং স্মার্ট সাপ্লাই বাংলাদেশ লিমিটেড এ রপ্তানি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। পর্যায়ক্রমে আরও আলু বিদেশে রপ্তানি করা হবে।
স্মার্ট সাপ্লাই বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক মিল্লাত হাসান জানান, থিংকস টু সাপ্লাইয়ের মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে ‘সানশাইন’ আলু রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে অন্যান্য জাতের আলুও রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বাজারেও ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপে আলু সরবরাহ করা হচ্ছে।
রংপুর অঞ্চলের পার্টনার প্রোগ্রামের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার অশোক কুমার রায় জানান, চলতি অর্থবছরে এ অঞ্চলের ৫ জেলা থেকে প্রায় ২ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে এবং ৭৫ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উত্তম কৃষি চর্চা (এঅচ) অনুসরণ করে উৎপাদিত আলুর আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করছে। এর ফলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি খাত আরও শক্তিশালী হবে।
