রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নন্দীগ্রামে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ মানুষ

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় বিদ্যুতের নামে চলছে এক প্রহসন। “সাশ্রয়” এর দোহাই দিয়ে দিনের পর দিন গ্রামাঞ্চলে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে অসহনীয় লোডশেডিং। দিনে-রাতে মিলিয়ে ১৫-২০ বার বিদ্যুৎ যাওয়া যেন এখন নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দারা।
সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে পৌর শহরে বিদ্যুৎ তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামের মানুষকে রাখা হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা অন্ধকারে। কৃষকরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলেন, আমরা কি এই দেশের নাগরিক না? শহরে বিদ্যুৎ থাকবে, আর আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা অন্ধকারে থাকবো এ কেমন বিচার?
লোডশেডিংয়ের কারণে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে জনজীবন। অন্যদিকে ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। দিন-রাতে মিলিয়ে ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকা এখন স্বাভাবিক ঘটনায় দাঁড়িয়েছে।
তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের এই লুকোচুরি মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। মানুষ বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে চার্জার ফ্যান কিনতে ঝুঁকছেন, আর সেই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দিয়েছে দাম।
শুধু তাই নয়, বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে টিভি, ফ্রিজসহ ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অথচ এসব ক্ষতির কোনো দায় নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অপরদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তীব্র সমালোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন বিদ্যুৎ কি শুধু শহরের জন্য, গ্রামাঞ্চল কি দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। শহরে লোডশেডিং না থাকলেও তবে গ্রামে কেন বারবার লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে এটা কি কোন বৈষম্য নয়।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম কায়সার রেজা জানান, উপজেলায় সাপ্লাই রয়েছে প্রায় ৪ মেগাওয়াট, আর চাহিদা ১০ মেগাওয়াট। ঘাটতির কারণেই লোডশেডিং হচ্ছে আমাদের কিছু করার নাই।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This

COMMENTS