×

কোরবানির ঈদ ঘিরে জমে উঠছে সেতাবগঞ্জ পশুর হাট

বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পশুর হাটে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে হাটে বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন পশুর হাট হিসেবে পরিচিত সেতাবগঞ্জ হাটে আজ সোমবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে খামারি, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের আসতে দেখা যায়।
হাট ঘুরে দেখা গেছে, বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। বাজারে বর্তমানে ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যের গরু বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছাগল বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে।
ক্রেতা রফিক সরকার বলেন, “এখনো গরু কিনিনি। আজ হাটে এসে দাম যাচাই করছি। তবে ছোট ও মাঝারি গরুর দাম গতবারের তুলনায় কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।”স্থানীয় খামারি রহিমুল ইসলাম বলেন, “খাদ্য ও ওষুধের দাম বাড়ায় গরু পালনে খরচ বেড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে ভালো গরু দিতে।”গরু বিক্রেতা আজিজুল হক বলেন, “ভারতীয় গরু কম আসায় স্থানীয় খামারিদের গরুর চাহিদা বাড়বে বলে আশা করছি। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, বাজার আরও জমে উঠবে।”
হাটের ইজারাদার ম্যানেজার আনসারুল হক (পলাশ) বলেন, “ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে হাটে নিরাপত্তা, আলোর ব্যবস্থা ও সার্বক্ষণিক তদারকি রাখা হয়েছে। ঈদ ঘনিয়ে এলে হাটে পশুর সরবরাহ ও বেচাকেনা আরও বাড়বে।”হাটে আসা কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে ততই বেচাকেনা বাড়বে। অনেক ক্রেতাই আগেভাগে হাটে এসে পশু দেখে দাম যাচাই করছেন।
বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু কায়েস বিন আজিজ জানান, উপজেলায় নিবন্ধিত খামারির সংখ্যা ৪ হাজার ৪১২ জন। এ বছর উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ২৯ হাজার ৬৩০টি গবাদিপশু।
বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “কোরবানির পশুর হাটে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। হাটে জাল টাকা প্রতিরোধ, চুরি-ছিনতাই রোধ এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।”
এ বিষয়ে বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মারুফ হাসান বলেন, “কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সেতাবগঞ্জ পশুর হাটে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গবাদিপশুর সুস্থতা যাচাইয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি জাল নোট শনাক্তকরণের জন্য ব্যাংক প্রতিনিধি নিয়োজিত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিজিবিকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে স্থানীয় খামারিরা আশা করছেন, ঈদের শেষ দিকে পশুর বাজারে বেচাকেনা আরও বাড়বে এবং তারা গবাদিপশুর ন্যায্যমূল্য পাবেন।

মন্তব্য করুন

যে ঘরগুলোতে * চিহ্ন রয়েছে সেগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।