

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
ভারতে উদ্ধার হওয়া এক বাংলাদেশি জেলের লাশ গত ২০দিন পর দিনাজপুরের হিলি চেকপোস্ট দিয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে ভারতের হিলি অভিবাসন পুলিশ বাংলাদেশের হিলি অভিবাসন পুলিশের কাছে তার লাশটি হস্তান্তর করেন। পরে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইসমাইল হোসেন (৬৫) বিরল উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের কামদেবপুর মাস্টারপাড়া গ্রামের মৃত মনসুর আলীর ছেলে।
ইসমাইলের পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল বিকেলের দিকে ইসমাইল বিরল সীমান্তবর্তী কামদেবপুর চান্দামারী পুরানঘাট এলাকায় পুনর্ভবা নদীতে মাছ ধরতে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা নদীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালালেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের ৪দিন পর গত ৩ মে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর থানার যাদববাটি বাটুলপাড়া নদীর ঘাটে একটি অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধের লাশ দেখে উদ্ধার করেন ভারতীয় পুলিশ। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাশের ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা ইসমাইলের লাশ বলে শনাক্ত করেন। শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা লাশ দেশে আনতে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে দীর্ঘ ২০দিন সময় লাগে। লাশ হস্তান্তরের সময় সীমান্তে উপস্থিত স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ইসমাইলের ছেলে হায়দার আলী বলেন, প্রতিদিন বাবার মরদেহ ফেরত পাওয়ার আশায় সীমান্তে এসে অপেক্ষা করেছি। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাবাকে দেশে আনতে পেরেছি। এখন অন্তত তাকে নিজের মাটিতে দাফন করতে পারব।
তিনি আরও জানান, আমার বাবা কামদেবপুরের লালমাটিয়া সুইসগেটের কাছে মাছ মারছিলেন। হয়তো গেটের কপাট (সুইসগেট) খুলে দেওয়ায় বাবা ভেসে গেছেন।
এদিকে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের এএসআই আবু তালেব জানান, আজ বুধবার দুপুরে ভারতের হিলি অভিবাসন পুলিশ আমাদের কাছে ইসমাইলের লাশ হস্তান্তর করেছে। পরে আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসময় হিলি চেকপোস্টে ভারতের ১৫১ নং বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার নিশিত লাহা ও ভারতীয় পুলিশ কর্মকর্তা অতুল কুমার ভট্টাচার্য, বিজিবি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ পরিবারের লোকজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
