×

হিলিতে জমে উঠেছে পশুর হাট, ভারতীয় গরু না আসায় খুশি ক্রেতা-বিক্রেতারা

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলমানদের দরজায় কড়া নাড়ছে। তাই শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর হিলি পৌর শহর এলাকার কোরবানি পশুর হাট। ঈদের দিন ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহুর্তে হাটে বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি। তবে এবারে সীমান্তে কড়া নিরাপত্তার কারণে ভারতীয় গরু দেশের হাটে না আসায় খুশি খামারি ও সাধারণ গৃহস্থরা।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে দেশী বকনা, গাভী গরু ও আড়িয়া, শাহী আওয়াল গরু সহ ছাগলের ব্যাপক সমাগম দেখা গেছে। পশুর দাম তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে ভালো দামের আশায় অপেক্ষায় রয়েছেন খামারিরা। তারা বাজারে সব জিনিস পত্রের দাম বেশি। আরও তিন দিনে তিনটি পশুর হাট রয়েছে আশাবাদী কাঙ্খিত দামে বিক্রি হবে।
হাকিমপুর হিলি পৌর শহরের রাজধানী মোড়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বসা অস্থায়ী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক, ভ্যান ও পিকআপে করে গরু-ছাগল নিয়ে আসছেন খামারি ও গৃহস্থরা। ক্রেতা বিক্রেতা স্বতঃস্ফূর্ত হাটে ঘুরাফেরা করতে পারায় তারা খুশি।
হাটজুড়ে যার যেমন প্রযোজন ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের দেশী, শাহী আওয়াল, ক্রোসের সহ বিভিন্ন জাতের গরু-ছাগলের পর্যায়ের দেখা গেছে। বিশেষ করে দেশি জাতের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ৫০-৬০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দেড় থেকে দুই লাখ টাকারও বেশি মূল্যের গরু উঠেছে হাটে। ফলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানির পশু কিনতে পারছেন।
কোরবানির পশু কিনতে আসা ইয়াসিন আলী বলেন, আল্লাহর সন্তুোষ্টির জন্য কোরবানি কিনতে এসেছি। আর বেশির ভাগ সময় বিদেশে থাকি ঈদে কোরবানি পশুর হাটে কোরবানি গরু এক দিনে এসে কিনতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ! কাকতালীয় ভাবে আল্লাহর অশেষ রহমতে ৮২ হাজার টাকা দিয়ে শাহী আওয়াল বকনা গরু কিনেছি। সবার পছন্দ এতেই খুশি।
আর এক ক্রেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, আমার এবং আমার আম্মার গরুর মাংস খাওয়া চলে না। তাই হিলির হাটে এসে ১২ হাজার পাঁচ’শ টাকা দিয়ে দেশী ছাগল কিনেছি।
গরু বিক্রেতা ও ক্ষুদে খামাড়ি বলেন, আমার গরুটি বকনা গরু। অনেক যত্ন করে দুই বছর ধরে লালন-পালন করেছি। বাজারে গরুর খাবার খৈল, ভূসি, গম ও ভূট্টার দাম বেশি। অনেক টাকা খরচ করেছি। গরুটি নিন্মে এক লাখ টাকা বিক্রি করতে পারলে কিছু লাভ হবে। অনেকে ৮৫- ৮৮ হাজার টাকা এবং কেউ বলছে ৯০ হাজার ভেঙে বেচাকেনা করেন। তবে ৯২-৯৫ হাজার টাকার নিচে বিক্রি করবো না।
হাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুলিশ ও আনসার সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। এছাড়া পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত ও গাভীর ক্ষেত্রে গর্ভে বাচ্চার বিষয়টা নিশ্চিত করতে কাজ করছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মেডিকেল টিম।
ঈদের হাটে অসুস্থ পশু শনাক্তকরণ, চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।
হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি সার্জন কর্মকর্তা মোনতাসির মামুন জানান, চলতি বছর উপজেলায় কোরবানির জন্য মোট ১৫ হাজার ৯৮৩টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু, মহিষ ও ছাগল রয়েছে। চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ২৫০টি পশুর। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ৭৩৩টি পশু রয়েছে। উপজেলায় মোট ৩ হাজার ২৩৯টি খামার রয়েছে। হাটে পশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
এবারের হিলির কোরবানি পশুর হাট পৌর কতৃপক্ষের নিকট ডাক নিয়েছেন শাহাবুল ইসলাম। কিন্তু হাটে এসে দেখা গেছে এসব দেখভাল করছেন সোহেল হোসেন।
তিনি জানান, হাকিমপুর হিলি পৌর শহরে নিদিষ্ট কোন পশুর হাট লাগানোর জায়গা না থাকায় আমরা যারা কোরবানি পশুর হাট ডেকে নিয়েছি ক্ষতি ছাড়া লাভ হওয়ার কোন সম্ভাবনা কম। আগে পাইলট স্কুল বা কলেজ মাঠে পশুর হাট লাগতো জায়গা বড় ছিলো গরু ছাগলের আমদানি বেশি হতো ক্রয়ের রশিদ (ছাপার) দাম ও একটু কম হতো। এবারে স্কুল ও কলেজ মাঠ বর্ষার পানিতে ডুবে থাকায় সংকীর্ণ জায়গায় হাট বসাতে হয়েছে এবং মেইন রোডের সামনে সব সময় রিক্সি থাকতে হয়। ফলে ক্রয়ের রশিদ (ছাপার) ক্রেতা-বিক্রেতার সম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে। কারও কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
শেষ মুহূর্তে জমে ওঠা এই হাটকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকার অর্থনীতিতেও প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তবে স্থানীয়দের আগামীতে পৌরসভা কতৃপক্ষ পশু হাটের জন্য পর্যাপ্ত নিদিষ্ট জায়গা সহ গরু ও ছাগলের ক্রেতা ও বিক্রেতার কত টাকা দিতে তা চার্টে লিখা থাকে এর জেড় দাবি জানান। অন্য দিকে খামারি,পরিবহন শ্রমিক, খাবারের দোকানদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে ঈদকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

মন্তব্য করুন

যে ঘরগুলোতে * চিহ্ন রয়েছে সেগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।