×

ঝরে পড়া লিচু কুড়িয়ে বিক্রি করে টিফিনের টাকা জোগাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
ধান-লিচুতে ভরপুর উত্তরের জেলা দিনাজপুরের ফুলবাড়ীসহ ১৩টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে লিচু। রসে ভরা টকটকে লাল লিচুর ভারে নুয়ে পড়েছে বাগানের গাছগুলো। এরইমাঝে লিচু ভাঙতে শুরু করেছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা, জমে উঠেছে লিচুর বাজার।
এদিকে লিচু পাড়ার সময় বা ঝড়ে যেসব লিচু মাটিতে ঝরে পড়ে থাকে এসব ঝরা লিচু বাগান থেকে কুড়ায় শিশুরা। ওরা সবাই বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী। ঈদুল আজহার ছুটিতে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিশুরা এ সময়কে কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন ভোরে ছুটছে লিচু বাগানে। তারা ঝরা লিচুর পসরা সাজিয়ে সড়কের ধারে বসে। তা থেকে তাদের বাড়তি আয় হয়।
দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাঁচবাড়ী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে ফুটপাতে বসেছে ঝরা লিচুর বাজার। একদল শিশু লিচু নিয়ে বসে আছে। ক্রেতা এলে তারা দরদাম করে ওই লিচু বিক্রি করছে। সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় স্বল্প আয়ের মানুষ সেখান থেকে সস্তায় লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতি একশ পিছ ঝরা লিচু বিক্রি হচ্ছে ১০০টাকা দরে।
ভ্যানচালক মোন্নাফ আলী ছেলেমেয়েদের বায়না মেটাতে লিচু কিনতে এসেছেন শিশুদের কাছে। এসময় তিনি বলেন, ‘বাজারে লিচুর দাম বেশ চড়া। সে দামে লিচু কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই। এখানে কম দামে ঝরা লিচু পাওয়া যায় শুনে লিচু কিনতে এসেছি।’
লিটন সরকার নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘যাতায়াতের পথে শিশুদের লিচুর বাজারটি আমার নজরে পড়েছে। দাম অনেক কম, তাই এখান থেকে বাচ্চাদের জন্য কিছু লিচু কিলাম।
মারুফা নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী রাস্তার পাশে লিচুর পসরা নিয়ে বসেছে। সে জানায়, প্রতিদিন লিচু কুড়িয়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকার লিচু বিক্রি করি। লিচু বিক্রির টাকা জমিয়ে রাখছি তা দিয়ে স্কুলে টিফিন খরচ হবে। বন্ধুরা মিলে মজা করে খাবো।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সবুজ ও জুয়েল বলে, ‘আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে বাগানে পড়ে থাকা লিচু কুড়িয়ে এনে বিক্রি করি। ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি চলে না লিচুর ব্যবসা। বাগানে লিচু শেষ হলেই আমাদের আয় শেষ হয়। এই টাকা জমিয়ে রাখি টিফিনের জন্য। অনেক সময় নিজের টুকিটাকি জিনিস কিনে নিই।’

মন্তব্য করুন

যে ঘরগুলোতে * চিহ্ন রয়েছে সেগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে।