

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুর জেলার শিক্ষার নগরী হিসেবে পরিচিত চিরিরবন্দরে অবস্থিত আমেনা বাকি স্কুল এন্ড কলেজে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে মেয়ে তানিয়া আক্তার তন্নু। ঈদের ছুটি শেষে মেয়েকে সাথে নিয়ে চিরিরবন্দরে যায় মা সেলিনা আক্তার। হোষ্টেলে রেখে সিএনজি রিজার্ভ করে বাড়ি আসার পথে বিরামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. সেলিনা আক্তার (৩২)।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে দিনাজপুর-বিরামপুর মহাসড়কে টাটকপুর নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনা স্থলে গুরুতর আহত হন শিক্ষিকা সেলিনা আক্তার ও জনৈক সিএনজি চালক।
গুরুতর আহত সেলিনা আক্তারকে প্রথমে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত সেলিনা আক্তার হাকিমপুর হিলি পৌর শহরের পালপাড়া এলাকার তৌহিদুর রহমান রানার স্ত্রী। তিনি পৌর শহরের জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা হানিফ এন্টারপ্রাইজ এর একটি বাস বিরামপুর পৌর শহরের টাটকপুর এলাকায় সিএনজিকে ধাক্কা দিলে সিএনজি ছিটকে পড়ে সেলিনা আক্তারের মুখের চৌয়াল ভেঙে মুখমণ্ডল থেঁতলে যায় এবং মাথায় রক্তক্ষরণ হয়। এসময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রথমে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
রংপুর থেকে বিকেল পাঁচটার দিকে মরদেহ স্বামীর নিজ বাসভবন হাকিমপুর পৌর শহরের পালপাড়া গ্রামে নিয়ে আসা হয়। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে হাকিমপুর প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। মরদেহ স্বামী বাড়িতে নিয়ে আসার খবর শুনে সেখানে ছুটে আসেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শামসুল আলম, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জামান আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. নওশাদ আলী, জালালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. লিপিআরা বেগম সহ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জামান আলী ও সাধারণ সম্পাদক মো. নওশাদ আলী বলেন, সেলিনা আক্তার সহকারী শিক্ষক হিসেবে নম্র ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। তাঁর আকর্ষিক মৃত্যুতে আমাদের উপজেলা শিক্ষা পরিবার শোকাহত। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি।
নিহত সেলিনা আক্তারের দুই সন্তান- বড় ছেলে সিফাত হোসেন রংপুর প্রাইভেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে এবং ছোট মেয়ে তন্নু চিরিরবন্দরের আমেনা বাকি স্কুল এন্ড কলেজ অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে বলে জানা যায়।
