শুক্রবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রচণ্ড গরমে দুর্ভোগে কৃষিশ্রমিক

ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ে ফসলি জমিতে কাজ করতে গিয়ে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন কৃষিশ্রমিকেরা। কাঠফাটা রোদে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে কাজ করতে পারছেন না তাঁরা। কিছু সময় পরপর গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আমন ধান ঘরে তোলার সময় ঘনিয়ে এসেছে। আর মাত্র ২৫-৩০ দিন পর কাটা শুরু হবে আমন ধান। তবে এই সময়ে অতি খরা, উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ারও শঙ্কা রয়েছে। সদর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের কৃষক আফতাব আলী বলেন, আশ্বিন মাসে এত গরম কখনো অনুভব করিনি। গরমের কারণে খেতে ঠিকমতো কাজ করা যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ কাজ করলে গরমে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে কাজ ফেলে রেখে গাছের তলায় বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। সদরের বিলপাড়া গ্রামের কৃষিশ্রমিক ফয়েজ আলী বলেন,গরমে খেতের পানিও টগবগ করছে। জমিতে পা ভেজালে মনে হয় গরম পানিতে পা ঝলসে যাচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী মাঠে ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় মজুরিও কম পাচ্ছি। একই গ্রামের কৃষক হাফিজুল ইসলাম বলেন,এই গরমে দিনমজুরির চুক্তিতে কৃষিশ্রমিক নিয়ে পোষানো যাচ্ছে না। তাই কাজ সম্পন্ন করে দেবে এমন চুক্তিতে শ্রমিক নিচ্ছি। অন্যদিকে এভাবে তাপপ্রবাহ চলতে থাকলে আমন ধানে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন একাধিক কৃষক। জানতে চাইলে জেলার হরিপুর উপজেলার কাড়িগাঁও গ্রামের কৃষক জলিল মিয়া বলেন, প্রচণ্ড গরমে আমন ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমনের জন্য আদর্শ তাপমাত্র ৩৫ ডিগ্রি। কিন্তু গত এক মাস ধরে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। একই উপজেলার মশানগাঁও গ্রামের কৃষক শিমুল বিশ্বাস বলেন, অতিরিক্ত গরমে খেতে বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কারেন্ট পোকাসহ অন্যান্য পোকা গাছের পাতা ঝলসে দিচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে ফসলের ওপর কেমন প্রভাব পড়তে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত গরমে আমন খেতের ক্ষতি হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই। এ সময় খেতে পর্যাপ্ত সেচ দিতে হবে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This