

নিজস্ব প্রতিবেদক
শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিজিবি।
এছাড়াও ফুলবাড়ী উপজেলার ৬১টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ৪০০ আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। পূজাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নির্বিঘ্নে উৎসব উদযাপন নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চত করেছেন ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম।
বিজিবি জানায়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা । এ উৎসব আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনেরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বিশেষ করে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক নজরদারি এবং যেকোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৫৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ৫১টি, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ৪টি পূজামণ্ডপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলার লক্ষ্যে ৯টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য বিজিবি প্রস্তুত থাকবে।
ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান, পিএসসি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ ক্ষেত্রে সবার প্রতি আমার আহ্বান-গুজবে কান দেবেন না, যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার করবেন না এবং সন্দেহজনক কোনো বিষয় নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করুন। বিজিবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’-এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।
এদিকে আনসার ভিডিপির দায়িত্ব বণ্টনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার অধিক গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি পূজামণ্ডপে ৮জন করে মোট ১৩৬ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ শ্রেণির ৪৪টি পূজামণ্ডপে ৬জন করে মোট ২৬৪ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সব মিলিয়ে ৬১টি পূজামণ্ডপে ৪০০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। প্রতিটি পূজামণ্ডপে দুজন করে নারী আনসার সদস্যও দায়িত্ব পালন করবেন।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোছা. সাহারা বানু বলেন, আনসার সদস্যদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, পূজা উপলক্ষে দুইজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন।
আনসার এবং বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশের বিশেষ টিম দ্বারা প্রতিটি পূজামণ্ডপে টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ সকল জরুরী নম্বরের তালিকা করে একটি করে ফেষ্টুন টাঙানা হয়েছে। ২৪ ঘন্টা মণ্ডপের খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে এবং যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিহত করতে পুলিশ বাহিনী সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার ৬১টি পুজামণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য ও ৪০০ আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যরাও টহল জোরদার করছেন। আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি।
