আগামী ৯ অক্টোবরের মধ্যে দাবি না মানলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারী
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির গেটে ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ


পার্বতীপুর প্রতিনিধি
দেশের একমাত্র কয়লা খনি দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা কোল মাইন কোম্পানী লিমিটেড এর আবাসিক গেটের সামনে ক্ষতিপুরণের দাবিতে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন ক্ষতিগ্রস্থ চৌহাটি গ্রামবাসী। এসময় খনির আবাসিক গেটের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ চলায় খনির কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী বাইরে হতে পারেনি এবং কেউ বাহির থেকে ভিতরে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে গেটের বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ৫০টি ট্রাকে বিদেশ থেকে আমদানী করা যন্ত্রাংশ খনির ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। আজ রোববার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ চৌহাটি গ্রামের হাজার হাজার নারী-পুরুষ ক্ষতিপূরনের দাবিতে এই মাববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এসময় আন্দোলনকারীরা আগামী ৯ অক্টোবরের মধ্যে দাবি না মানলে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্য দাবি আদায়ের হুশিয়ারী দেন।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ক্ষতিগ্রস্থদের দাবি আদায় জীবন ও বসত রক্ষা কমিটির নেতৃত্বে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্টিত হয়। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ চলা কালে কমিটির সভাপতি সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, আগামী ৯ অক্টোবরের মধ্যে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ ঘর-বাড়ি সার্ভের মাধ্যমে পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে বিক্ষোভ মিছিলসহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামের ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছিল কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা ও মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। তাদের চারদফা দাবিগুলো হচ্ছে (১) পূর্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফাটল ধরা বাড়ির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে (২) ধোকাবাজী, মিথ্যা আশ^াস দিয়ে চৌহাটীবাসীকে বোঝানো বন্ধ করতে হবে (৩) কয়লা খনি প্রতিষ্ঠাকালনি সময়ে চৌহাটি এলাকাবাসীর সাথে সমোঝোতা চুক্তির ১০০% বাস্তবায়ন করতে হবে এবং (৪) চৌহাটিবাসীর চলাচললের রাস্তা মেরামতের ব্যবস্থা করতে হবে।

জীবন ও বসত রক্ষা কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমান আরও বলেন, চৌহাটিগ্রামের বাড়ী-ঘর, রাস্তা-ঘাট ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা প্রতি মূহুতে বিপদ দেখছি। এখন কিছুই বাঁকি নেই।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, স্কুল কলেজ মাদ্রাসা কবরস্থান রাস্তাঘাট সবই ধ্বংস হয়ে গেছে, অসুস্থ রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে যাব, রাস্তার বেহাল অবস্থার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও আসতে চায়না।
চৌহাটি গ্রামের মালেকা বেগম জানান, নলকুপে পানি উঠছে না, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই গ্রামের মোসলেমা বেগম বলেন, চৌহাটি গ্রামে আমার বাড়ি, স্বামী-সন্তান নিয়ে আমরা রাতে ঘুমাতে পারছিনা। ওই গ্রামের মশিউর রহমান বলেন, বর্তমান কয়লা খনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সাইফুল ইসলাম সরকার আমাদের প্রতি অন্যায় ও বৈষম্য সৃষ্টি করছে। মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চৌহাটি গ্রামের মাসুদ আলী, গোলাহারুন রহমান প্রমুখ।
এদিকে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, ইতিমধ্যে সার্ভে টিম গঠন করা হয়েছে। অতিদ্রুত সার্ভে করে ক্ষতিগ্রস্থ চৌহাটি গ্রামের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ৮ গ্রামকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু করেছি।
