খুনিদের বিচার দেখে যেতে চান শহীদ নাঈমের বাবা-মা


কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের রুবাইদুজ্জামান নাঈম ৪ আগস্ট বিকেলে ঢাকার আশুলিয়ায় ছাত্র জনতার আন্দোলনে যোগ দিয়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন মধ্যরাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় গার্মেন্টস কর্মী নাঈমের। তার মৃত্যুতে থেমে যায় পরিবারের সব স্বপ্ন। ঢাকার একটি পোষাক কারখানার কর্মী হিসেবে মাত্র দু’মাস হয়েছে নাঈমের। তার এবং হাফেজিয়া মাদরাসা শিক্ষক বাবা ও দর্জি মায়ের উপার্জন নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিলো তাদের কিন্তু স্বপ্ন অঙ্কুরে ধ্বংস করেছে পুলিশের গুলি। গত চার আগস্ট বিকেলে গার্মেন্টস থেকে বেরিয়ে নাঈম যোদ দেন ছাত্র জনতার আন্দোলনে। এমন সময় আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। স্থানীয় হাসপাতাল থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে পরদিন মধ্যরাতে মৃত্যু হয় তার। চার আগস্ট দুপুরে সবশেষ মোবাইল ফোনে কথা হয় বাবা-মায়ের সাথে নাঈমের। সন্ধ্যার পর ফ্রি হয়ে কথা বলতে চাইলেও আর কথা বলতে পারেননি বাবা-মা বরং খবর পান গুলিবিদ্ধ হওয়ার। অত্যন্ত ভদ্র শান্ত শিষ্ঠ নাঈমের এই মৃত্যু কোনভাবে মেনে নিতে পারছেন না বাবা,মা,স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তার মৃত্যুতে দায়ীদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চান তারা। শহীদ নাঈমের মা রোকসেনা বেগম সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন -আমাকে আর মা বলে কে ডাকবে। সে যে আমার বড় ছেলে। শহীদ নাঈমের স্মৃতিচারন করে তিনি বলেন, সে বাসায় থাকলে আমার পিছে পিছে ঘুরে বেড়াতো , আমি যেখানে যেতাম তাকে নিয়ে যেতাম। তার বাবা মাদ্রাসায় প্রতিদিন যেত,ছোট দুই ভাইয়ের সাথে সেও খেলা করত। এই অভাব অনটনের নাঈম আমাদের স্বপ্ন দেখাতো, মা আমি ঢাকায় যে চাকরি করে পরিবারে সব সমস্যা দূর করবো একদিন। মা-বাবা তোমাদের আর দঃখ থাকবে না, এভাবে বলত আমার ছেলে। এই স্বপ্ন নিয়ে দুই মাস আগে আমার ছেলে ঢাকায় যেয়ে চাকরী নেয়। ছেলে মৃত্যুতে আমাদের সব স্বপ্ন শেষ। আমি আমার ছেলে খুনদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দেখে যেতে চাই এই সরকারের কাছে। এ বিষয়ে শহীদ নাঈমের বাবা আনিচুর রহমান জানান, গত ৪ আগষ্ট দুপুরে তার মা এবং আমার সাথে নাঈমের মোবাইল কথা হয়। সন্ধ্যার পর ফ্রি হয়ে কথা বলতে চাইলেও আর কথা বলতে পারেননি বরং খবর পান গুলিবিদ্ধ হওয়ার। খবর শুনে আত্নীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিদের নিকট টাকা ধার নিয়ে টাকা পাঠান ছেলের চিকিৎসার জন্য। পরে গুরত্ব অসুস্থতার কথা শুনে শেষ সম্বল গরুটি বিক্রি করে ঢাকায় ছেলে চিকিৎসার জন্য টাকা নিয়ে ঢাকায় যান তারপরও ছেলেকে বাঁচাতে পারিনি। আমার এই সরকারের কাছে একটি চাওয়া আমি আমার ছেলের খুনিদের বিচার দেখে যেতে চাই। শহীদ নাঈমের নানি মফু মিয়া বলেন, আমার নাতি খুবই ভাল ছিল, আমার সাথে খুব আমার সম্পর্ক ছিল। তার এভাবে মৃত্যু হবে সেটা কেউ আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমার নাতি খুনি বিচার দেখতে চাই আমি এই সরকারের কাছে। শহীদ নাঈমের প্রতিবেশী মিলনসহ অনেকে দাবী করেন -অভাব অনটনে থাকা নাঈমের পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে নাঈমের মা এর জন্য একটি চাকুরী এবং মাসিক ভাতার ব্যবস্থা চান সরকারের কাছে প্রতিবেশীরা। আর যাতে কোন মায়ের কোল খালি না হয় এমন বিচারের দৃষ্টান্ত দেখতে চান তারা। ৬আগষ্ট বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয় নাঈমের। তার কবর জিয়ারত ও পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। জীবিত অবস্থায় ছেলে হত্যার বিচার দেখে কিছুটা হলেও শান্তি চান বাবা-মা সহ স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
