শুক্রবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দিগন্ত জোড়া সবুজ মাঠে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন


গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধায় কৃষি ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ধাপেরহাট ইউনিয়ন। এখানে নানা ধরনের শাক-সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। এরই মধ্যে কৃষকরা ঝুঁকছেন হলুদ চাষে। ইতোমধ্যে এই হলুদ ফসল ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে তাদের। জেলার ধাপেটরহাট ইউনিয়নের দিগন্ত জোড়া মাঠে নজর কড়ছে হলুদ ক্ষেতের গাঢ় সবুজের দৃশ্য। অধিক ফলনের সম্ভাবনা। লাভজনক এই ফসল ঘরে তোলার স্বপ্নে পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা।
সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় কৃষক নজরুল ইসলাম, আনার আলী ও নেজাম উদ্দিনে সাথে। তারা জানান, সমতল ভূমিতে এখানকার মাটি লাল। অন্যান্য কৃষি এলাকা থেকে ভিন্নতর। উর্বর মৃত্তিকা ও বন্যামুক্ত হওয়া এই এলাকায় ব্যাপক শাক-সবজি উৎপাদনের পাশাপাশি হলুদই এখন প্রধান অর্থকরী ফসল। প্রত্যাশার চেয়ে লাভ বেশি থাকায় এমন কোনো কৃষক নেই যে, হলুদ আবাদ করেন না।
হলুদ চাষ সম্পর্কে উত্তরপাড়ার কৃষক শাহজাহান আলী বলেন, সাধারণত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সারিবদ্ধ ভাবে হলুদ বীজ রোপণ করা হয়। এর প্রায় ৮ মাস পর ফসল ঘরে তোলা হয়। এতে বিঘায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মণ উৎপাদন হয়ে থাকে। যার হাল চাষ, শ্রমিক ও অন্যান্য ভাবে খরচ হয় ১৬ হাজার টাকা। ফলন ও বাজারে দাম ভালো থাকলে প্রায় ২৫ হাজার টাকা লাভ থাকে। এ বছর দেড় একর জমিতে হলুদ চাষ করেছি।
হলুদ আবাদে হালকা সেচ ও গোবর সার প্রয়োগ করতে হয়। রোগ বা পোকার আক্রমণে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। সবমিলে অন্যান্য ফসলের চেয়ে হলুদ আবাদে খরচ ও ঝুঁকি কম হওয়ায় ধাপেরহাট এলাকায় দিন দিন হলুদ আবাদ বাড়ছে। বলছিলেন কৃষক নুরুন্নবী সরকার।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন মন্ডল বলেন, মসলা জাতীয় হলুদ সব ধরনের মাটিতে আবাদ করা যায়। এর মধ্যে ধাপেরহাট এলাকার মাটি অত্যন্ত উপযোগী। তাই কৃষকরা কম খরচে অধিক লাভ পাচ্ছেন হলুদ ফসলে।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে জেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর হলুদ আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকই ধাপেরহাট ইউনিয়নে রয়েছে। এই আবাদে অধিক লাভ রাখতে কৃষকদের সর্বাত্মক ভাবে সহযোগীতা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, হলুদ একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। রান্নার কাজ ছাড়াও কাঁচামাল শিল্পে হলুদ ব্যবহৃত হচ্ছে। এ জন্য হলুদের চাহিদা বেশি থাকায় এই আবাদ ধীরে ধীরে বাড়ছে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This