বড়পুকুরিয়ায় কয়লা উৎপাদন বন্ধ


নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল কয়লাখনি দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায়। খনিটির উৎপাদনশীল ১৪১৪ কোল ফেসের (কয়লা উত্তোলন বা নির্গমন মুখ) মজুদ শেষ হওয়ায় শনিবার চলতি শিফট শেষে উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির মাইন অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) খান মো. জাফর সাদিক ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খনির উৎপাদনশীল ১৪১৪ নম্বর ফেস থেকে চলতি বছরের ৩ আগষ্ট থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়। ওই ফেস থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করা হয়। এই ফেসে মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন ফেসে যন্ত্রপাতি স্থানান্তরের জন্য খনির কয়লা উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। তবে যন্ত্রপাতি স্থানান্তরের জন্য এখন কিছু পার্সিয়াল প্রডাকশন হবে যা সামান্য।
কয়লাখনির মাইন অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) খান মো. জাফর সাদিক জানান, ১৩০৫ ফেসে নতুন করে ওপেন আব কাট নির্মাণ, ১৪১৪ ফেস থেকে সব যন্ত্রপাতি স্যালভেজ ও যথাযথ মেইন্টেন্যান্স করে ১৩০৫ ফেসে স্থাপন করে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন ফেস থেকে আবারও উৎপাদন চালু করা সম্ভব হবে জানান এই কর্মকর্তা। ধারণা করা হচ্ছে, ১৩০৫ নতুন ফেস থেকে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা পাওয়া যাবে।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে উৎপাদিত কয়লা দিয়ে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ
উৎপাদিত হয়। বর্তমানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইয়ার্ডে সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন কয়লা মজুদ রয়েছে। বর্তমানে ১৬৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন তিন নাম্বার ইউনিটটি চালু রয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বাঁকি দুটো ইউনিট বন্ধ রয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন ১হাজার ৬০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হয়। ফেইস পরিবর্তনের কারণে দুই মাস কয়লা উত্তোলন বন্ধ থাকলেও যে পরিমান কয়লা মজুদ রয়েছে তা দিয়ে চার মাস স্বাভাবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো সমস্যা হবে না।
