পীরগঞ্জে দু’টি খাদ্য গুদামে সংগ্রহ হয়নি এক কেজি ধানও


পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পীরগঞ্জ ও ভেন্ডাবাড়ি খাদ্য গুদামে এক কেজি ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি। গত ২৮ নভেম্বর ধান চাল সংগ্রহ অভিযান আরম্ভ হলেও প্রায় ২ মাসে কোন কৃষক আসেনি এলএসডি গোডাউনে ধান দিতে। ধানের দাম কমতে শুরু করেছে এমন ভাবনা থেকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী সময় শেষের আগে সংগ্রহের কিছু টার্গেট পুরণের স্বপ্ন দেখছেন কর্মকর্তারা।
চলতি মওসুমে সরকারি ভাবে উপজেলার ২টি খাদ্য গুদামে ১ হাজার ৬৫৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়। এজন্য প্রতিটি ইউনিয়নে মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ লোকবল দিয়ে ক্যাম্পেইন চালানো হয়। তবুও গত প্রায় ২ মাসে এক কেজি ধানও সংগ্রহ হয়নি। খোলাবাজারের চেয়ে সরকারি গুদামে দাম কম, তাই এমন পরিস্থিতি বলছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে চলতি মওসুমে চাল সংগ্রহে ৭টি অটো রাইচ মিলসহ ৫৬টি হাসকিং চাতালের সঙ্গে চুক্তি হয়। গত ২৩ জানুয়ারী পর্যন্ত ১ হাজার ৮১০ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অমুল্য কুমার সরকার জানান, চলতি মওসুমে গত বছরের ২৮ নভেম্বর থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়ে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। উপজেলার ভেন্ডাবাড়ি ও পীরগঞ্জ খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহের লক্ষমাত্রা অর্জন না হলেও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে। চলতি মওসুমে সরকারিভাবে চালের কেজি ৪৭ টাকা এবং ধান ৩৩ টাকা নিধারণ করা হয়েছে।
উপজেলা চাতাল মালিক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, সরকারিভাবে ধান ক্রাসিংয়ে অটো রাইস মিল মালিকদের বরাদ্দ দেওয়ায় হাসকিং চাতাল ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হয়েছে। ২০১৮ সালে উপজেলায় ২১০টি হাসকিং চাতাল ছিল। বর্তমানে রয়েছে ৯৮টি। বরাদ্দ না পাওয়ায় দিন দিন ব্যাংকে ঋণের পরিমাণ বাড়ায় অনেক চাতাল ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে গেছেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে খোলা বাজারে প্রতি কেজি ধান ৩৫/৩৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সরকারি রেট ৩৩ টাকা। খাদ্যগুদামে ধান দিতে কৃষককে আগে আবেদন করতে হয়। সাধারণ কৃষক, খুচরা ব্যবসায়ী এবং চাতাল মালিকরা লোকসান করে তো খাদ্যগুদামে ধান দেবেন না। চাল সংগ্রহে যাদের সাথে চুক্তি রয়েছে তারা জরিমানা ও সরকারের সাথে চুক্তি ঠিক রাখতে লোকসান করে হলেও খাদ্যগুদামে চাল দিবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চাতাল মালিক জানান, অনেক চাতাল মালিক দীর্ঘদিন কোনো বরাদ্দ পাননি। ব্যবসা না থাকায় ব্যাংক ঋণ বেড়ে যাওয়ায় চাতাল বন্ধ করে দিয়েছে। অতীতে দলীয় প্রভাবের কারণে বরাদ্দে বৈষম্য ছিল। এতে হাসকিং চাতাল মালিকরা বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমানে সরকারি রেট খোলা বাজারের চেয়ে কম। সে কারণে ধান সংগ্রহ হচ্ছে না। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা (পীরগঞ্জ খাদ্যগুদাম) আরিফ হোসেন জানান, বাজারে ধানের দাম কমে আসছে, এখনও সময় আছে। আশা করছি খাদ্যগুদামে ধান আসবে। ব্যবসায়ীদের সাথে শর্তসাপেক্ষে চুক্তি রয়েছে, তাই চাল সংগ্রহে টার্গেট পূরণ হবে।
