শুক্রবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পীরগঞ্জে মায়ের লাশ উদ্ধারের দু’দিন পর মিললো মেয়ের লাশও

 

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগঞ্জে শুক্রবার সকালে মাথা বিহীন এক নারীর লাশ উদ্ধারের এক দিন পর শনিবার বিকেলে ওই লাশের খন্ডিত মাথা উদ্ধার হয়। এরও একদিন পর নিহত নারী দেলোয়ারার ৫ বছরের কন্যা শিশু সাইমার মৃতদেহ উদ্ধার করলো পীরগঞ্জ থানা পুলিশ। আজ রোববার সকালে উপজেলার চতরা ইউনিয়নের বড়বদনাপাড়া গ্রামের ঘাতক আতিকুল ইসলামের বাড়ির পিছনে একটি গাছের বাগানের ভিতরে গর্তে পুতে রাখা ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।
রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) আছিফা আফরোজা আদুরি জানান, নিহত দেলোয়ারার স্বামী গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জের দিলালপুর গ্রামের রেজাউল করিম পুলিশের কাছে জানান, তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী দেলোয়ারার সাথে তার কন্যা সাইমাও ছিল। সাইমার সন্ধান জানতে চান তিনি। পুলিশ ঘাতক আতিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জানতে পারেন, দেড় মাস আগে শিশু সন্তান সাইমাকে হত্যার পর লুঙ্গিতে পেঁচিয়ে বাড়ির পিছনে পশ্চিম দিকে একটি গাছের বাগানে গোবরের স্তুুপের পাশে ৩/৪ ফিট গর্ত করে পুতে রাখে। ঘাতক আতিকুল ইসলামের স্বীকারোক্তি নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। পরে ঘাতকের তথ্য মতে বর্ণিত স্থান থেকে শিশু সাইমার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকালে বড় বদনাপাড়ায় এক নারী মরিচ উঠাতে গিয়ে ক্ষেতে মাথা বিহীন নারীর লাশ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে পুলিশে খবর দেন। সিআইডি ক্রাইম সিন দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে লাশের পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্ত করে। তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে তার নাম দেলোয়ারা বলে জানা সম্ভব হয়। নিহত নারী গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দিলালপুর গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী। নীলফামারীর জলঢাকার পশ্চিম গোরমুক্তা গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে তিনি। এরপর পুলিশ মাথা বিহীন লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়েআসে। পর দিন শনিবার চতরা ইউনিয়নের করতোয়া নদীর তীরে পাকারমাথা টোংরারদহ এলাকা থেকে মাথাটি উদ্ধার করা হয়। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে বড় বদনাপাড়া গ্রামের মুনছুর আলী মন্ডলের ছেলে আতিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই অনন্ত কুমার বর্মণ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশের একটি দল বস্তা ও ব্যাগে ভর্তি ছবি, সিমকার্ড, কাগজে লিখিত কয়েকটি মোবাইল ফোন নম্বর পেলে নারীর পরিচয় জানতে পারে। এক পর্যায়ে আতিকুলের গতিবিধিতে নজর রাখে তারা। শনিবার সকালে বোরকা পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় কাবিল পুরইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর সড়ক থেকে তাকে আটক করা হয়। আতিকুলের স্বীকারোক্তিতে কাটামাথা, শিশুর লাশের সন্ধান মিললে উদ্ধারে ঘটনাস্থলে যায়পুলিশ। দু’টি হত্যাকান্ডের রহস্য এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে তদন্ত চলছে বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি এমএ ফারুক। আতিকুল এলাকায় জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত বলেও জানান তিনি।
এদিকে স্বজনরা দেলোয়ারার লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানালে শনিবার রাতে পুলিশের উদ্যোগে রংপুর সদরের মুন্সিপাড়া সরকারি কবরস্থানে দাফনকার্য সম্পন্ন হয়।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This