

বগুড়া প্রতিনিধি
মেলা হল যখন একটি সামাজিক, ধর্মীয়, বাণিজ্যিক বা অন্যান্য কারণে একটি স্থানে অনেক মানুষ একত্রিত হয়। মেলা শব্দটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে আনন্দের অনুভূতি হয়। মেলার আক্ষরিক অর্থ মিলন। মেলায় একে অন্যের সঙ্গে ভাব বিনিময় হয়।
বগুড়া শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে নুনগোলা ইউনিয়নের দারিয়াল গ্রামে শত বছর ধরে এ মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসের দ্বিতীয় রোববার থেকে শুরু হয়। এই মেলা ঘুড়ির জন্য প্রসিদ্ধ। তাই দাঁড়িয়ালের মেলা ‘ঘুড়ির মেলা’ নামেও পরিচিত। তবে এবারের মেলায় দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে ১২ কেজি ওজনের মাছ মিষ্টি। এই মিষ্টিটি দেখতে সকাল থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমিয়েছিল। পরে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা ধরে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
এবারের মেলায় ১২ কেজি ওজনের মাছ মিষ্টি তুলেছিলেন মেঘা দই মিষ্টি দোকান। দোকানের মালিক মিলন হোসেন বলেন, ‘১২ কেজি ওজনের মিষ্টি ৫০০ টাকা কেজি দরে মোট ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এছাড়াও মাছ মিষ্টির পাশাপাশি চমচম, কালো জাম, হাসি খুশি, রাজভোগ, কাটারিভোগ, স্পঞ্জের মিষ্টি বিক্রি করা হচ্ছে।’
ঐতিহ্যবাহী এই গ্রামীণ মেলায় হরেক রকমের ঘুড়ির পাশাপাশি তৈজসপত্র, মিষ্টান্ন, খেলনা, পাখা, প্রসাধনীসহ নানান পণ্য বেচাকেনা হয়। এই মেলার গোড়াপত্তন হয়েছিল নানা ধরনের ঘুড়ি উড়ানো নিয়ে। এক ধরনের ঘুড্ডির নাম দাঁড়িয়াল। এলাকার লোকজন এক ধরনের ঘুড্ডির নামে গ্রামের নাম দিল দাঁড়িয়াল। সেই থেকে গ্রামের কোনো পাথারে প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠের দ্বিতীয় রবিবার মেলাটি বসে। এছাড়া মেলায় এবার চং, ডাহুক, ঈগল, কয়ড়া, কঙ্কালসহ নানা আকৃতির ঘুড়ি উঠেছে। এবার সবচেয়ে চং নামের ঘুড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে।
মেলায় দেড়শোর মত ঘুড়ি বিক্রি করতে এসেছেন শিবগঞ্জের বিহার এলাকার ৯০ বছর বয়সী আব্বাস আলী। তিনি বলেন, ‘এখানে প্রতি বছরই ঘুড়ি বিক্রি করার জন্য আসি। প্রতি ঘুড়ি ১২০ টাকা করে বিক্রি করছি। যতদিন হাঁটার শক্তি আছে ততোদিন ঘুড়ি নিয়ে এই মেলায় আসতে চাই।’
নুনগোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বদরুল ইসলাম জানান, দাঁড়িয়াল মেলায় কয়েকশ বছরের পুরনো মেলা। প্রতিবছরই উৎসবের সঙ্গে এ মেলার আয়োজন হয়ে থাকে। এবারের মেলায় চার শতাধিক দোকান বসেছে। উপজেলা নির্বাচনের কারণে এবারের মেলা দুইদিন ব্যাপী চলবে। এ মেলাকে ঘিরে আশপাশের অর্ধশত গ্রামের মানুষ ঘুরতে আসেন। তবে কয়েক বছরের তুলনায় অত্যধিক গরম হওয়ার কারণে মেলায় ভিড় কিছুটা কম।
