

ক্রীড়া ডেস্ক
দুই দফা মিলিয়ে প্রায় ২৩ বছর ধরে সফলভাবে রিয়াল মাদ্রিদ পরিচালা করছেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। বিশেষ করে ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেননি কেউ-ই। তবে গত দুই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ক্লাবটির সবচেয়ে সফল সভাপতিকে ঘিরে। রিয়াল সমর্থকদের একাংশের দাবি, আগের মতো দৃঢ়ভাবে ক্লাব পরিচালনা করতে পারছেন না পেরেজ। তার বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও চলছে আলোচনা।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে একাধিকবার কথা বলেছেন পেরেজ। তবে তার সেই সাক্ষাৎকারগুলো সমর্থকদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বরং খেলোয়াড়দের পক্ষ নিয়ে সমর্থকদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন— এমন অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
দীর্ঘদিন ধরেই পেরেজের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ রয়েছে— তিনি কোচদের পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেন না। কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে বেশিরভাগ সময়ই তারকা খেলোয়াড়দের পক্ষ নেন তিনি। ফলে কৌশলনির্ভর কোচের চেয়ে ড্রেসিংরুম সামলাতে দক্ষ ম্যানেজমেন্টধর্মী কোচদের প্রতিই বরাবর ঝোঁক দেখা গেছে তার।
চলতি মৌসুমে রিয়ালের দায়িত্ব নেওয়া ক্লাব কিংবদন্তি জাবি আলোনসো আধুনিক ও ট্যাকটিক্যাল নির্ভর কোচ হিসেবে পরিচিত। প্রযুক্তি ও বিশ্লেষণনির্ভর ফুটবলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে মনে করা হয়।
তবে ড্রেসিংরুমে পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় কাজটা কঠিন হয়ে পড়ে তার জন্য। শেষ পর্যন্ত কোচের পাশে না দাঁড়িয়ে বরাবরের মতো খেলোয়াড়দের পক্ষ নেন পেরেজ। এর ফলেই দায়িত্ব ছাড়তে হয় জাবি আলোনসোকে— এমনটাই মনে করছেন ক্লাবসংশ্লিষ্ট অনেকেই। এই সিদ্ধান্তে খুশি নন রিয়াল মাদ্রিদের বেশ কয়েকজন কিংবদন্তিও।
আগামী মৌসুমকে সামনে রেখে নতুন কোচ খোঁজা শুরু করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ক্লাবটির প্রথম পছন্দ ছিলেন সাবেক লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। তবে কোচিংয়ে ফেরার ব্যাপারে আগ্রহ না দেখানোয় তাকে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ফলে আবারও পুরোনো পথেই হাঁটতে হচ্ছে পেরেজকে। আলোচনায় উঠে এসেছে সাবেক রিয়াল কোচ হোসে মরিনহোর নাম, যদিও গত এক দশকে বড় সাফল্য খুব একটা নেই তার ঝুলিতে। এর ফলে তার ওপরে সন্তুষ্ট নন ক্লাব কিংবদন্তি ইকার ক্যাসিয়াসসহ অনেকেই।
এমন পরিস্থিতিতে আবার আলোচনায় উঠে এসেছে স্প্যানিশ ধনকুবের এনরিক রিকেলমের নাম। ২০২১ সালেই রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। গুঞ্জন রয়েছে, ভবিষ্যৎ সভাপতি হিসেবে তাকে সমর্থন করছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং ক্লাবের কয়েকজন কিংবদন্তি ফুটবলার।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল কনফিডেনসিয়াল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিকেলমে হাঁটছেন ২৬ বছর আগের পেরেজের পথেই। প্রথমবার সভাপতি নির্বাচনের আগে পেরেজ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন— নির্বাচিত হলে লুইস ফিগোকে এফসি বার্সেলোনা থেকে রিয়ালে নিয়ে আসবেন। পরে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবেও রূপ দেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সভাপতি নির্বাচিত হলে রিকেলমের প্রথম পছন্দের কোচ হবেন ক্লপই। যদিও বর্তমানে কোচিংয়ে ফেরার ব্যাপারে এখনো অনাগ্রহী এই জার্মান কোচ।
শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়— সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। এনরিক রিকেলমে, নাকি আবারও ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ, কে সামলাবেন রিয়ালের ঘর?