

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের আধুনিকায়ন এবং দুটি আন্তঃনগর ট্রেন পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির দাবিতে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ।
১৫ দিনের মধ্যে দাবি না মানলে ফুলবাড়ীতে অর্ধদিবস রেলপথ অবরোধসহ স্টেশন ঘেরাও এর কর্মসূচী ঘোষণা করা হয় মানববন্ধন থেকে আগামী ।
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের প্লাটফর্মে এক ঘন্টাব্যাপী ফুলবাড়ী উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, ফুলবাড়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে। যাত্রীসেবার মানও অত্যন্ত নিম্নমানের।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল, ফুলবাড়ী ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব মানিক মন্ডল, ফুলবাড়ীর সম্মিলিত নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক হামিদুল হক, গণসংহতি আন্দোলন ফুলবাড়ী শাখার সদস্য সচিব আব্দুল মোত্তালিব পাপ্পু, এনসিপি’র দিনাজপুর জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ইমরান চৌধুরী নিশাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফুলবাড়ী শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম, মোতালেব হোসেন মহররমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের বর্তমান ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করলেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও স্টেশন আধুনিকায়নের পাশাপাশি পঞ্চগড় এক্সপ্রেস এবং কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃনগর ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে আসলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ১৭ মে রেল মন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি পেশসহ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে আগামী দিনে ফুলবাড়ীর জনগণ অর্ধদিবস রেল পথ অবরোধসহ ফুলবাড়ী রেলস্টেশন ঘেরাও করবে।

প্রসঙ্গত বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়ের) ২৩টি থানার প্রবেশদ্বার ফুলবাড়ী স্টেশন দিয়ে আপ-এ ১১টি এবং ডাউনে ১১টি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন যাতায়াত করে। ভৌগলিক কারণে ফুলবাড়ী স্টেশনটির গুরুত্ব নানা কারণে অনেক। কারণ স্টেশনটি থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, একই দূরুত্বে একটি বিজিবি ব্যাটালিয়নের হেড কোয়ার্টার, ১১ কিলোমিটার দূরে মধ্যপাড়া পাথর খনি, একই দূরত্বে বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্র স্বপ্নপুরি। এসকল প্রতিষ্ঠানের লোকজন এই স্টেশন দিয়েই প্রায় সময় চলাচল করে থাকেন। এছাড়া পর্বতীপুর, নবাবগঞ্জ ও বিরামপুরের কিছু এলাকার লোকজন এই স্টেশন দিয়ে চলাচলা করে থাকে। এর মধ্যে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেন দুটির স্টোপেজ নেই এই স্টেশনে। ফুলবাড়ী স্টেশন সূত্রে জানা যায়, এই স্টেশনে এসব ট্রেন গুলো থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৪৫ লাখ টাকার রাজস্ব আয় হয়। আসন স্বল্পতার কারণে এই স্টেশনে যাত্রা বিরতি করা ট্রেনগুলো রাজস্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে না। একইসাথে স্টেশনটি বৃটিশ আমলের হলেও প্লাটফর্ম সম্প্রসারণ, আধুনিক ভবন, প্লাটফর্মের ছাউনি না থাকায় বর্ষাকালে যাত্রীদের বৃষ্টির পানিতে ভিজে না ভোগান্তির মধ্যে ট্রেনে উঠতে হয়।