

নিজস্ব প্রতিবেদক
সবেমাত্র ফজরের নামাজ শেষ হয়েছে। চারদিকে আধোআলো-আধো অন্ধকার, নিস্তব্ধ পরিবেশ। তখনও অনেকেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। এরই মধ্যে তারা একে একে মাঠে আসতে শুরু করেছেন। কেউ মাঠের চারপাশে দৌড়াচ্ছেন, কেউ শরীরচর্চা করছেন, আবার কেউ ফুটবল পায়ে নিয়ে একাই অনুশীলনে ব্যস্ত।
কিছুক্ষণ পর ভোরের আলো ফুটতেই নানা বয়সী খেলোয়াড়দের পদচারণায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে খেলার মাঠ । মাঠের এক পাশে কিশোররা ক্রিকেট খেলায় মেতে ওঠে, অন্য পাশে বয়স্কদের শরীরচর্চা ও ফুটবল খেলায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। এমন দৃশ্য প্রতিদিন দেখা মেলে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ মাঠে।
জানা গেছে, প্রতিদিন মাঠে খেলতে আসা ব্যক্তিদের একটি ফুটবল দল রয়েছে। তারা এর নাম দিয়েছেন ‘ভোরের ফুটবল”। নানা বয়সী মানুষকে নিয়ে গঠিত এই দলের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩০ জন। তবে তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এ দলের সদস্য সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। তাদের মধ্যে শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী এবং অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীরাও রয়েছেন। এ যেন নবীন-প্রবীণের মিলন মেলা।
প্রতিদিন ভোরে তারা মাঠে খেলাধুলা ও শরীরচর্চার জন্য একত্রিত হন। সবার গায়ে থাকে একই ধরনের জার্সি। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাই তাদের মূল লক্ষ্য। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খেলা শেষ করে তারা বাড়ি ফিরে নিজ নিজ কর্মস্থলে চলে যান। এভাবেই চলে তাদের প্রতিদিনের রুটিন। দলের সদস্যরা জানান, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতেই তারা নিয়মিত মাঠে আসেন।
দলের সদস্য নুরুজ্জামান বলেন, “সুস্থ থাকতে হলে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা অত্যন্ত জরুরি। শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতেই আমাদের এই মিলনমেলা। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় আমাদের সুস্থ থাকার লড়াই। দিনের শুরুটা যদি এমন হয়, তাহলে পুরো দিনটাই কাটে চনমনে। বয়স কিংবা ব্যস্ততা-কোনো কিছুই মাঠের এই আনন্দ ও বন্ধুত্বকে থামিয়ে রাখতে পারে না। আমরা সবাই মিলে যেন একটি পরিবার।”
তিনি আরও বলেন, “সন্তানদের শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও আগ্রহী করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। খেলাধুলার মাধ্যমে তারা শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও বিকশিত হবে এবং জীবনকে আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে শিখবে।”