

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৭নং শিবনগর ইউনিয়নের দাদপুর মালিপাড়ার বাসিন্দা লালমিয়া (৭০)। একসময় দিনমজুরের কাজ করতেন। যা আয় হতো তা দিয়েই স্ত্রী ও এক মেয়েকে নিয়ে দিন কেটে যেত। মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন ২০বছর হল। কোন ছেলে সন্তান না থাকায় সংসারের ঘানী এখনও টানতে হচ্ছে তাকেই। বাড়িতে অসুস্থ স্ত্রী, দুজনের খাবার যোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয় লালমিয়াকে।
টগবগে যুবক থাকতে কত বোঝা কাঁধে নিয়েছেন তার কোন হিসেব নেই। বয়সের ভারে শরীরের শক্তি কমতে থাকে। একসময় দিন মজুরের কাজ করার মত দম হারিয়ে যায় লালমিয়ার। কিন্তু জীবিকার তাগিদে কোন না কোন কর্ম করতেই হবে তাকে। উপায়ন্তর না পেয়ে এক সময় কাঁধে করে আইসক্রিম মালাই বিক্রি শুরু করেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গ্রামে গ্রামে বাঙ্ বহন করে আইসক্রিম মালাই বিক্রি করতেন। সারাদিনে যা আয় হতো তা দিয়েই দুজনের সংসার চলতো কোন রকমে।
বয়স আরও বেড়ে গেল। এক সময় কাঁধে আইসক্রিমের বাঙ্ বহন করার শক্তিও হারিয়ে গেল। বাধ্য হয়ে লোহার স্ট্যান্ড বানিয়ে ঝাল মুড়ির ব্যবসা শুরু করেন তিনি। কিছুদিন পর লোহার স্ট্যান্ডও বহন করতে পারেননা। নানাবিধ অসুস্থতায় পড়েন লালমিয়া।
অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটে তার। চক্ষু লজ্জায় কারও কাছে হাতও পাতেন না তিনি। বিষয়টি নজরে আসে ফুলবাড়ী উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কর্মীদের। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তারা। তারা নিজেরা চাঁদা দিয়ে ও সামাজিক সংগঠন হাইয়্যা আলাল ফালাহ এর সহযোগিতায় একটি ঝালমুড়ির গাড়ি উপহার দেন লালমিয়াকে।
ঝালমুড়ির দোকানসহ গাড়ি উপহার পেয়ে আবেগ আপ্লুত লালমিয়া বলেন, এই গাড়ি বানানোর সামর্থ্য আমার ছিল না। যারা এই গাড়ির ব্যবস্থা করে দিলো আল্লাহ তাদের ভালো করুক।
ঝালমুড়ির গাড়িবিতরণের উদ্যোক্তা উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমানবলেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সমাজের দুস্থ অসহায় মানুষদেরকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করেদেয়। লালমিয়ার বিষয়টি আমাদেও নজরে আসায় আমরা নিজেরা চাঁদা দিয়ে তার জন্য কিছুকরার চেষ্টা করেছি মাত্র।
মঙ্গলবার (৩০জুন) বিকেলে পৌর শহরের ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপহারের ঝালমুড়ির গাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন দিনাজপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মো. এনামুল হক, ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন, অর্থ সম্পাদক তারেক মাহমুদ, যুব নেতা রিয়াজুল ইলাম, আ. খালেক প্রমুখ।