

দিনাজপুর প্রতিনিধি
কর অঞ্চল দিনাজপুরের উদ্যোগে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে ‘আয়কর বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় কর অঞ্চল দিনাজপুরের আঞ্চলিক কার্যালয় মিলনায়তনে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
দিনাজপুর জেলার কর্মরত সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কর অঞ্চল দিনাজপুরের কর কমিশনার মো. হাফিজ আল আসাদ।
কর্মশালার সভাপতি মো. হাফিজ আল আসাদ আয়কর ও ভ্যাটের ধারণা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি করদাতাদের বোঝার সুবিধার্থে আয়কর এবং ভ্যাট-এর মধ্যকার পার্থক্যটি সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "আয়করের বিভিন্ন দিক বা ডাইমেনশন রয়েছে, যার মধ্যে ইনকাম ট্যাক্স অন্যতম। দেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে তাদের বিক্রয় বা সেলস হিসাব করে থাকেন, যা অনেক সময় প্রকৃত হিসাব বের করা কঠিন করে তোলে। এই সমস্যার সমাধানে সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য 'প্যাকেজ ভ্যাট' বা যৌথ ভ্যাটের ব্যবস্থা করেছে।"
তিনি আরও জানান, বড় বা মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত তিনটি আলাদা সফটওয়্যার ব্যবহার করে তাদের অ্যাকাউন্টস মেইনটেইন করে। কিন্তু ছোট বা যেসব ব্যবসায়ীদের পক্ষে জটিল হিসাব রাখা সম্ভব হয় না, তাদের ব্যবসার ধরন ও পরিধি বিবেচনা করে সরকার একটি নির্দিষ্ট প্যাকেজ নির্ধারণ করে দিয়েছে, যাতে তারা সহজেই ভ্যাট প্রদান করতে পারেন।
তথ্যের গোপনীয়তা ও সামষ্টিক ডেটা উপস্থাপন
কর্মশালায় কর অঞ্চল ও করদাতাদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং ডেটা ম্যানেজমেন্ট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়। কর কমিশনার ব্যক্তিগত কর সংক্রান্ত গোপনীয়তার গুরুত্ব এবং কর অঞ্চলের সামষ্টিক তথ্য প্রকাশের নিয়মাবলী তুলে ধরে বলেন, করদাতাদের ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য (Private Data) যেমন—ব্যক্তিগত আয়, ট্যাক্সের পরিমাণ বা আয়ের সুনির্দিষ্ট উৎস জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না। এই ধরনের ডেটা প্রকাশ পেলে করদাতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে, যা কর প্রদানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা হলেও কর বিভাগের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি কর অঞ্চলের সামগ্রিক চিত্র বা সামষ্টিক তথ্য (Aggregated Data) প্রকাশ করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে— নির্দিষ্ট কর অঞ্চলে মোট ই-টিন (e-TIN) ধারী ও নিয়মিত রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা এবং সরকারি কোষাগারে সংগৃহীত মোট রাজস্বের পরিমাণ।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দিনাজপুর কর অঞ্চলসহ দেশের সকলকে কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ ও আশ্বস্ত করতে সংবাদকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
কর্মশালার অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দিনাজপুর সদর-প্রশাসন সার্কেল-১ এর উপ-কর কমিশনার অনুপম দাশ। দিনাজপুর কর অঞ্চল কার্যালয়ের সদর সার্কেল-৭, ১০ ও ১২ এর কর পরিদর্শক তারিক উল হাসানের উপস্থাপনায় কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম নবী দুলাল, প্রেসক্লাবের সদস্য মোর্শেদুর রহমান, রুস্তম আলী মন্ডল, আজাহারুল আজাদ জুয়েল, এমদাদুল হক, মো. খাদিমুল ইসলাম, মো. নুর ইসলাম, মো. আবুল কাশেম প্রমুখ।