

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলায় জেন্ডার সমতা, নারীর নেতৃত্ব এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে দুই দিনব্যাপী ‘জেন্ডার ডায়ালগ ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা’ শুরু হয়েছে। খ্রিস্টান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)-এর ‘সমান আওয়াজ’ (Samaan Aawaaj) প্রকল্পের আয়োজনে এবং কোডি ইনস্টিটিউট, সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার ইউনিভার্সিটি ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা-এর সহযোগিতায় ১৩ ও ১৪ জুলাই এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালাটির মূল লক্ষ্য ছিল জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য দূর করে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক স্থানীয় শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা। এতে স্থানীয় সাংবাদিক, যুব সংগঠনের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের (CSO) সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ হাসান। তিনি বলেন, "নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অগ্রযাত্রার মূল চাবিকাঠি হলো শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতা। এগুলো অর্জিত হলে তারা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে এবং সমাজের বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "সমতাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে সরকার, স্থানীয় সরকার, গণমাধ্যম, যুবসমাজ ও সুশীল সমাজকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থবহ অংশগ্রহন নিশ্চিত হলেই কেবল টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব।"

কর্মশালা পরিচালনা করেন, সমান আওয়াজ প্রকল্পের ফুলবাড়ী এরিয়া ম্যানেজার মোছা. খাদিজা আক্তার ও নবাবগঞ্জের এরিয়া ম্যানেজার মাহফুজা নাজনীন এবং সমান আওয়াজ প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার মো. ইসমে আজম বাধন, ঢাকা।
দুই দিনের এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। জেন্ডার-সংবেদনশীল উদ্যোগ বাস্তবায়ন, নারীর নেতৃত্ব বিকাশ, ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে গণমাধ্যম ও যুবসমাজের ভূমিকা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মশালার সুফল হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, যুবসমাজ ও কমিউনিটির মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে। যা নারী নেতৃত্ব, জেন্ডার সমতা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি প্রতিষ্ঠায় একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে।