

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় পল্লী অঞ্চলের মানুষের কথা চিন্তা করে টিআর ও কাবিটার প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় উন্নয়নের নতুন ধারা বইতে শুরু করেছে। রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ, কবরস্থান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজের মাধ্যমে পাল্টে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের চিত্র।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ১ম ও ২য় পর্যায়ে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) ১১৮ টি প্রকল্পে ৩ কোটি ৪৬ লক্ষ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষন (টিআর) ১৫০টি প্রকল্পে ২ কোটি ৬৮ লক্ষ ৫ হাজার ৪৯০ টাকা ও কাবিখা ৩৯টি প্রকল্পে ১৯২ মে.টন গম এবং কাবিখার ৩৯টি প্রকল্পে ১৯২ মে.টন চালসহ মোট ৩৪৬টি প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় উপজেলায় ১৯ কি.মি গ্রামীণ সড়কে ইটের সোলিং ও সিসি ঢালাই করা রাস্তার মাধ্যমে গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রত্যন্ত পল্লীতে চলাচল অনুপযোগী গ্রামের কাঁচা রাস্তায় ইট-বিছানো আবার অনেক রাস্তায় কংক্রিটের ঢালাই করা হয়েছে। ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হচ্ছে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে আর দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না। ত্রাণ ও পুর্ণবাসন অধিদপ্তরের উদ্যোগের ফলে উপজেলার গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, যার সুফল পাচ্ছে পীরগঞ্জবাসী। তবে কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নে নিম্নমানের কাজের অভিযোগও উঠেছে। কোথাও কোথাও নিম্নমানের কাজ বা অসম্পূর্ণ কাজের নজির পাওয়া গেছে। যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। শানেরহাট ইউনিয়নের পালানু শাহাপুর গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা একরামুল, চাঁন মিয়া, রফিকুল মিয়াসহ কয়েকজন জানান, এখানে প্রায় শতাধিক পরিবার বসবাস করে। আগে বর্ষাকালে চলাচল করাই যেত না। এখন রাস্তায় ইট বিছানোর ফলে যাতায়াত করতে অনেক সুবিধা হচ্ছে। চৈত্রকোল ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের ব্যবসায়ী ইসমাঈল, জিয়া, জয়নাল মিয়া জানান, বর্ষাকাল মানেই আমাদের কাছে দুর্ভোগ ছিল। সামান্য বৃষ্টিতে যানবাহন দুরের কথা, বাড়ি থেকে বের হতেই পারতাম না। অনেক কষ্টে বাজারে যাইতাম। এখন রাস্তায় সিসি ঢালাই ও ইটের সোলিং হওয়ায় দূর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ জানান, আমি এই উপজেলায় যোগদানের পর প্রচলিত মাটির কাজের পরিবর্তে গ্রামীণ সড়কে ইটের সোলিং ও সিসি ঢালাইয়ের প্রকল্প দিতে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের অনুরোধ করেছি। এই বর্ষা মৌসুমে তার সুফল পাচ্ছে পীরগঞ্জবাসী। জেলা ত্রাণ ও পুর্ণবাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি থাকায় প্রকল্পগুলো বর্তমানে দৃশ্যমান হচ্ছে। আগে যেখানে মাটির কাজ হতো এখন সেখানে ইট-সিমেন্টের ব্যবহার হচ্ছে। ফলে কাজে স্বচ্ছতা বাড়ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পীরগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। কৃষকের উৎপাদিত ফসল বাজারজাতকরণ সহজ হবে। প্রকল্পে কোন অনিয়ম করলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।