

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের রাজাবিরাট সাঁওতাল পল্লীর বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত চাঁদাবাজি ও চুরির মামলা প্রত্যাহার এবং সাঁওতালদের হয়রানি বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রোববার দুপুর ১টায় রাজাবিরাট বাজারে মাঞ্জিহী পরিষদ, রাজাবিরাটের আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বৃটিস সরেন। সমাবেশ আহ্বান করেন মিল্টন মার্ডি, রূপ সরেন ও শ্যামবালা হেমব্রম।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের ভাই শফিকুল ও উজ্জ্বলের দায়ের করা চাঁদাবাজি ও চুরির মামলাকে সাঁওতালদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা দাবী করেন, সাঁওতালদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই এবং অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
বক্তারা বলেন, “সাঁওতালরা কারও জমি দখল করে না, চাঁদাবাজি বা চুরি করে না। অথচ ভূমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে মামলা, হামলা ও নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত করা হচ্ছে।” তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভূমি নিয়ে বিরোধ, মামলা ও হামলার আশঙ্কার মধ্যে রাজাবিরাটের সাঁওতাল পরিবারগুলো বসবাস করছে।
দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ:
রাজাবিরাটের সাঁওতালদের ভূমি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাজাবিরাট এলাকায় সাঁওতাল পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, এক সাঁওতাল নারীকে মারধর এবং একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় মামলা হওয়ার পাশাপাশি সাঁওতালদের ভূমি ও জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদও করে।
ওই সময় বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে স্থানীয় সাঁওতালদের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনের ভূমি দখল ও উচ্ছেদের আশঙ্কার কথাও উঠে আসে। একটি প্রতিবেদনে স্থানীয় সাঁওতাল নেতাদের অভিযোগের বরাতে বলা হয়, রাজাবিরাট এলাকায় স্বাধীনতার পর থেকে সাঁওতালদের প্রায় ২৫০ বিঘা জমি বিভিন্নভাবে দখলে চলে গেছে।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দেশের ৪৭ বিশিষ্ট নাগরিকের এক যৌথ বিবৃতিতেও রাজাবিরাটে সাঁওতালদের ওপর হামলা ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের বিচারের দাবি জানানো হয়েছিল। বিবৃতিতে সাঁওতালদের মধ্যে বিভ্রান্তি, বিভাজন ও ভয় দেখিয়ে জমি কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
‘হয়রানি বন্ধ না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি’:
রোববারের সমাবেশে বক্তারা বলেন, সবসময় মামলা-হামলার ভয় নিয়ে কোনো সম্প্রদায়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। সাঁওতালদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা চাঁদাবাজি ও চুরির মামলা দ্রুত প্রত্যাহার এবং ভূমি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
বক্তারা ও উপস্থিত সবাই অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার এবং সাঁওতালদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে হয়রানি বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আদিবাসী নেতা রিপন বেসরা জয়, তারামনি সরেন, সাহেব মুরমু, মেরিনা সরেন, জুলিয়াস, কমলেশ সরেন, রূপ সরেন, শ্যামবালা হেমব্রম, অলিবিয়া হেমব্রম, মমতা হেমব্রম ও শিউলি হেমব্রম। আরও উপস্থিত ছিলেন সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুল রহমান মইনুল, মানবাধিকার ও সমাজকর্মী মনির হোসেন সুইট, রূহুল আমীনসহ অনেকে।
এ ছাড়া উড়াঁও সম্প্রদায়ের নেতা মিলন তিগ্যা ও আবিনা টপ্পাও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ থেকে উপস্থিত প্রত্যেকে “মিথ্যা চাঁদাবাজি ও চুরির মামলা প্রত্যাহার, সাঁওতালদের হয়রানি বন্ধ এবং ভূমি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার” দাবি জানান।