

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বিরোধের জেরে চলাচলের রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ একই এলাকার মৃত বুধারু মোহম্মদের ছেলে বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বাচ্চুসহ ২০-৩০ জনের একটি সংবদ্ধ দল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ঝাড়মারাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এতে ওই গ্রামের ৮-১০টি পরিবারের লোকজনের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। চলছে দু’পক্ষের বিরোধ। এর জের ধরে যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
ওই এলাকার শাহজাহান আলী জানান, প্রায় এক শতাব্দী ধরে ঝারমাড়া পাড়ার মানুষজন যে রাস্তা দিয়ে কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন এবং বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে আসছিলেন, সেটিই সম্প্রতি এক প্রভাবশালী ব্যক্তি জোরপূর্বক কেটে ফেলেছেন। এতে এলাকাবাসী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। পরে ৯৯৯ থেকে বীরগঞ্জ থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে রাস্তা কাটা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন পুলিশ।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত রাস্তাটি অন্যায়ভাবে কেটে ফেলা হয়েছে মানুষকে ভোগান্তি দিতে। তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মরিচা ইউনিয়নের ঝারমাড়া পাড়ার পাশে থাকা এই পথটি রাতের আঁধারে পেশিশক্তির মাধ্যমে কেটে ফেলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী বাচ্চু মিয়া। এতে শিক্ষার্থী, রোগী ও বৃদ্ধদের চলাচল এক প্রকার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
একই এলাকার মোশারফ হোসেন রুবেল বলেন, এলাকাবাসীর চলাচলের রাস্তাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ গেলে রয়েছে। প্রভাবশালী বাচ্চু মিয়া এই এলাকার সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দিয়েও ক্ষান্ত হননি। আমাদের একমাত্র চলাচলের রাস্তা কেড়ে নেওয়া হলো। আমাদের প্রশ্ন এই দেশে কি আমাদের কোনো অধিকার নেই? বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক করেও সুরাহা হয়নি।
এলাকার ৮-১০টি পরিবারের সদস্যদের চলাচলে ব্যবহৃত রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ কেটে ফেলে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েন তারা। এতে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারছেন না এলাকার অর্ধশতাধিক লোকজন। এ ঘটনার পর বীরগঞ্জ থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে।
অভিযুক্ত বাচ্চু মিয়া রাস্তা কাটার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, রাস্তাটি ব্যবহার করতে হলে এলাকাবাসীদের তিল লাখ টাকা দিতে হবে। না হলে এদিকে রাস্তার কোনো প্রয়োজন নেই।