

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের আট মাস পর অবশেষে এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গত ২৯ ডিসেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন স্থানীয় ঠিকাদার এম কেরামত আলী। আজ বুধবার আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তদন্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অভিযোগে তিনি সরকারি দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অবৈধভাবে সুবিধা দেওয়া, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। এর আগে ২৯ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে ‘সাধারণ ঠিকাদার ও আক্কেলপুরবাসীর ব্যানারে’ মানব বন্ধন করেছিল স্থানীয়রা।
অভিযোগপত্রে ঠিকাদার এম কেরামত আলী উল্লেখ করেন, হাসপাতালের আসবাব কেনার একটি দরপত্রে তিনি সর্বনিম্ন দরদাতা ছিলেন। কিন্তু তাঁকে বাদ দিয়ে চতুর্থ সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়া হয়। এতে সরকারের প্রায় ৫১ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একইভাবে অন্যান্য দরপত্রেও ইচ্ছেমতো ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া হাসপাতালের ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয় এবং সাধারণ রোগী ও সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও অভিযোগ করেন ওই ঠিকাদার। তাঁর দাবি, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায্য স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন তিনি।
এম কেরামত আলীর ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের নির্দেশনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে পত্র জারি করে নওগাঁর সিভিল সার্জন কার্যালয়। কমিটিতে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলামকে সভাপতি, বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানাকে সদস্য এবং নওগাঁ ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মুনীর আলী আকন্দকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
জারিকৃত ওই পত্রে বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটি আজ বেলা ১১টায় আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগের মাধ্যমে তারা তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। অভিযোগকারী এম কেরামত আলীও তদন্তের সময় দলিল প্রমানাদিসহ উপস্থিত ছিলেন।