

দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুর সদর -৩ আসনের এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, শিক্ষা কেবল সনদ অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং একটি জাতির নৈতিক ভিত্তি ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রধান শক্তি। শিক্ষার মেরুদণ্ড শক্ত না হলে একদিন জাতি ও সমাজ ভেঙে পড়বে। তাই নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হবে।
আজ শনিবার সকাল ১০টায় দিনাজপুর সদর উপজেলার কোম্পানি মোড়ে অবস্থিত দিনাজপুর গোপালগঞ্জ পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম বর্ষপূর্তি ও বাংলাদেশ নন-গভর্নমেন্ট স্কুল বোর্ড সোসাইটি, দিনাজপুর কর্তৃক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, “আমাদের প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারলে জাতি অনৈতিকতার পথে ধাবিত হবে।”
শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি অর্জিত জ্ঞান ও মূল্যবোধ নিজেদের জীবনে ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শৈশবে অর্জিত শিক্ষা ও সংস্কার মানুষকে সারা জীবন পথ দেখায়। তাই মেধার যথাযথ মূল্যায়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠনমূলক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের তাৎপর্য তুলে ধরে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটি শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং অন্তরের গভীর থেকে উঠে আসা বাস্তবতার নাম। সেই বাস্তবতাকে দৃশ্যমান করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি গোপালগঞ্জ পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. সোহেল রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন শরিফ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদ।
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নূরে জান্নাতি ফেরদৌসীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চেহেলগাজী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আমির আলী। অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ পত্র তুলে দেন প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা। একই সঙ্গে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ ও উপহার প্রদান করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা এবং প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষকদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
দশম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ফিতাকেটে, কবুতর ও বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে মিলনমেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং পতাকাস্তম্ভের ফলক উন্মোচন করেন।অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির নেতা মো. মামুনুর রশিদ কচি, দিনাজপুর সঙ্গীত ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম পাভেল, কোতোয়ালি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোস্তফা রিয়াদ আল আরাফাত পান্না, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।