

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলছে রংবেরঙের আঙ্গুর। মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে ১৫ জাতের আঙ্গুর চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা তাওহীদুল ইসলাম তহিদ।
২০২৪ সালে মাত্র কয়েকটি আঙ্গুরের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার পথচলা। প্রথমবারে গাছে ফল এলেও মিষ্টি না হওযায় হতাশ হন তিনি। তবে ব্যর্থতায় থেমে না গিয়ে কোথায় ভালো জাতের চারা পাবেন ও কিভাবে করলে মিষ্টন্নতা আসবে, শুরু করেন নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরিচর্যার নতুন কৌশল প্রয়োগ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে বাগানো পরিদর্শন করেন তিনি। ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে নতুন পরিকল্পনায় গড়ে তোলেন আঙ্গুরের বাগান। দেশের বিভিন্ন আঙ্গুরের বাগান পরিদর্শন করে সংগ্রহ করেন ১৫ জাতের ৮৫টি চারা। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে বাইকুনর, একেলো, গ্রিন লং, ক্রিপ্টো, কিলার, ভেলেজ, জরিনা, রাসুনিয়া, জয় সিডলেস, স্পিস, রেবেকা, ব্ল্যাক ম্যাজিক, টিকটক, মার্সেল ফোর্সসহ বিভিন্ন জাতের আঙ্গুর ফল। গাছের জন্য তৈরি করেছেন বাঁশের খুঁটি, রশি দিয়ে উঁচু মাচা। আধুনিক পদ্ধতি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে নিয়মিত পরিচর্যা, সার ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করায় এবার বেশ কিছু গাছে এসেছে ফলন। বাগানে গিয়ে দেখা যায় থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল, কালো ও সবুজ আঙ্গুর ফল। যা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছে অনেকেই।

মাহমুদপুর মডেল স্কুলের শিক্ষক আব্দুল কাদের বলেন, আমাদের এলাকায় এই প্রথম আঙ্গুর চাষ হয়েছে। তাই বাগানটি দেখতে আসছি। দেখে খুব ভালো লাগল। আমার মতো অনেকে আঙ্গুর বাগান দেখতে আসছে। আঙ্গুর খেয়ে দেখলাম বেশ মিষ্টি ও সুস্বাদু। তাই আমিও নিজের জমিতে আঙ্গুর চাষ করার কথা ভাবছি।
আঙুর চাষী তাওহীদুল ইসলাম তহিদ বলেন, ছোটবেলা থেকে আঙুরের প্রতি আমার নেশা ছিল। জীবনের স্বপ্ন ছিল, সবাই যেটা করে সেটা না করে নতুন কিছু করার। সেই ইচ্ছা শক্তি আর কৃষি প্রতি ভালোবাসা থেকে আঙ্গুর চাষ শুরু করি।মাত্র ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ১০ শতক জমিতে ১৫ জাতের ৮৫ টি আঙুরের চারা রোপন করি। শুরুতে অনেক ভয় কাজ করছিল তবে বাগানে ফল আসায় আর ভয় লাগে না। আশা করছি আমার বাগন থেকে প্রথমবার প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় হবে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় উপজেলায় প্রথমবারের মতো আঙ্গুর চাষ শুরু হয়েছে। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া আঙ্গুর চাষের জন্য উপযোগী। আমরা নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি। মাহমুদপুর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী তাওহীদুল ইসলাম তহিদ এই উদ্যোগে এখন শুধু একটি বাগানের সফলতা না। পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষিকে পেশা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া তরুণদের জন্যও এটি হয়ে উঠেছে নতুন অনুপ্রেরণার