
নিজস্ব প্রতিবেদক
পিচ ঢালা পথের ধারে সবুজ পাতা, হালকা বাদামি বর্ণের বাকল আর ছয়টি মুক্ত পাপড়ি আর হলুদ রঙের পরাগবিশিষ্ট জারুল আর গাড় লাল কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্যের এক মোহনীয় রূপ ধারণ করেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর এলাকা। এখানে সেখানে ফুটে আছে মন মাতানো এসব ফুল। যদিও বসন্তকে ঋতুরাজ বলা হলেও অনেকের চোখে গ্রীষ্ম হচ্ছে পুষ্প উৎসবের ঋতু। তাইতো গ্রীষ্ম ঋতুতে দেখা মেলে কৃষ্ণচূড়া, জারুল আর সোনালু ফুলের।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে ফুলবাড়ী পৌর সভার মেয়র শহরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে জারুল, কৃষ্ণচূড়া, জ্যাকান্ডা (নীল কৃষ্ণচূড়া), সাদা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, হিজল, পলাশ ও সোনালুসহ বিভিন্্ন প্রজাতির তিন হাজার ফুলগাছের চারা রোপন করেন। এক বছর পর কিছু গাছে ফুল এলোও এবার প্রায় সব গাছেই ফুল এসেছে। এর মধ্যে পৌর শহরের প্রধান সড়কে পাশে সবুজের ফাঁকে ফাঁকে ডানা মেলেছে বেগুনী জারুল আর লাল টুকটুকে কৃষ্ণচূড়া, কোথাও হলুদ সোনালু। বেগুনি জারুল ফুল আর লাল কৃষ্ণচূড়া দৃষ্টি কেড়েছে পথচারীদের ও ফুল প্রেমীদের।
ঢাকা-ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে ফুলবাড়ীতে প্রবেশ করতে ফুলবাড়ীর ঢাকা মোড় থেকে নীমতলা পর্যন্ত চোখে পড়ে রাস্তার দুই ধারে সারি সারি জারুল আর কৃষ্ণচূড়ার। তেজহীন রৌদ্রদীপ্ত সকাল, তপ্ত দুপুর কিংবা পশ্চিমে এলিয়ে দেওয়া সূর্যহীন বিকেলে পথচারীদের দাঁড় করিয়ে নিজের দিকে একপলক দেখার সম্মোহনী শক্তি নিয়ে যেন ফুলগুলো পরিস্ফুটিত হয়েছে। পথিকের সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দিচ্ছে বেগুনী জারুল আর লাল কৃষ্ণচূড়া।

জারুলের হাস্যোজ্জ্বল রূপ নিয়ে পথচারী আল মামুন বলেন, ইট পাথরের শহরে সবুজ পাতার ফাঁকে ঝাঁক বেঁধে দেখা মিলছে জারুল, কৃষ্ণচূড়া শুধু তাদের রূপ ছাড়াচ্ছে না, তাদের এই রূপে মুগ্ধ পথচারীরা। তবে আরও ফুল গাছ লাগাতে হবে। তবেই স্বার্থক হবে ফুলবাড়ী নামের। বর্তমানে বেগুনি রঙের জারুল ফুলেরা কেড়ে নিচ্ছে পথচারীর মুগ্ধ দৃষ্টি।
প্রত:ভ্রমণে বের হওয়া আতিকুর রহমান শুভ বলেন, ‘গ্রীষ্মের তাপদাহে যখন অতিষ্ঠ জীবকুল তখন থরে থরে সাজানো একটা ফুল আপনাকে আমাকে চোখ জুড়ানো মায়াতে আকৃষ্ট করে।
ফুলবাড়ী পৌর মেয়র আলহাজ¦ মাহমুদ আলম লিটন বলেন, শহরের হাইওয়ের পাশে এবং শহরের বিভিন্ন রাস্তায় কৃষ্ণচূড়া, জারুল, সোনালু, রাধাচূড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয় ২০২২ সালে। এবার অধিকাংশ গাছেই ফুল এসেছে। আগামীতে এই ধরনের ফল ও ফলের গাছ পৌর শহরের বিভিন্ন রাস্তার ধারে লাগানো হবে। সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রকার সৌন্দর্যবর্ধক গাছ যদি রোপণ করা যায় তাহলে প্রকৃতি যেমন অপরূপভাবে সেজে উঠবে তেমনি অক্সিজেন পাব আমরা।