
চিরিরবন্দর প্রতিনিধি
দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলায় পরিত্যক্ত জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বাদামের চাষাবাদ শুরু হয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ৬ প্রদর্শনীতে প্রায় ৪ একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের বাদাম চাষ করেছেন প্রান্তিক পর্যায়ের ছয়জন কৃষক।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় পরিত্যক্ত জমিতে প্রথমবারের মতো লোরি জাতের চীনা বাদামের চাষ হয়েছে।
আব্দুলপুর ইউনিয়নের চিরিরবন্দর গ্রামের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা খাদিমুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে বাদাম গাছের মুঠি ধরে টান দিলেই উঠে আসছে থোকা থোকা সোনালি রঙের বাদাম। এসব পরিত্যক্ত জমির মাটিতে বাদাম বাদে অন্যকোনো ফসল উৎপাদন করে বাদামের সমপরিমাণ লাভ হবে না। অন্য ফসল উৎপাদনের চেয়ে বাদাম উৎপাদনে খরচ কম হওয়ায় পরিত্যক্ত জমিতে বাদামের প্রদর্শনী করা হয়েছে। বাদাম রোপণের পর অন্য ফসলের মতো কোনো পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। নেই রাসায়নিক সারেরও তেমন ব্যবহার। বীজ রোপণ আর পরিপক্ব বাদাম উঠানো পর্যন্ত তেমন কোনো খরচও নেই বললেই চলে। উচ্চ ফলনশীল বাদাম চাষে কৃষকরা লাভবান হবেন।
কৃষক ওমর ফারুক বলেন, চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসারের সহযোগিতায় আমার পরিত্যক্ত প্রায় এক একর জমিতে উচ্চফলনশীল লোরি জাতের চীনা বাদাম চাষ করছি। আমাদের এলাকায় ধান, আলু, টমেটো ও লিচুর চাষ হয়। এই প্রথম বাদাম চাষ করছি বাদামের ফলন বেশ ভালো হবে আশা করছি। বাদাম উৎপাদন খরচ খুব কম। পরীক্ষামূলক প্রথমবার বাদাম চাষ করলেও আশা করছি লাভবান হবো।
চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা বলেন, চীনা বাদাম একটি স্বল্পমেয়াদি অর্থকরী ফসল। এটি একটি উৎকৃষ্ট ভোজ্য তেলবীজ। চীনা বাদামের বীজে শতকরা ৪৮ থেকে ৫০ ভাগ তেল এবং শতকরা ২২ থেকে ২৯ ভাগ আমিষ রয়েছে। চীনা বাদামের পুষ্টিগুণ অনেক। হেক্টরপ্রতি চীনা বাদামের গড় ফলন ২-২.২ টন। যেহেতু কম পরিচর্যা লাগে তাই চীনা বাদাম চাষ করে কৃষক সহজেই লাভবান হতে পারেন।
তিনি বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে চিরিরবন্দরে চলতি খরিপ-১ মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৩ একর জমিতে বাদাম চাষ করানো হয়েছে। আশা করছি ভালো ফলন পেয়ে কৃষকরা লাভবান হবেন এবং স্বল্পমেয়াদি অর্থকরী ফসল চীনা বাদামের চাষ চিরিরবন্দরে সম্প্রসারিত হবে।