
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
চলতি আমন মৌসুমে সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ শুরু দিনাজপুরের পার্বতীপুরে খাদ্য গুদামে দুই মাস ৫দিনেও এক ছটাক ধান সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজার দর বেশি হওয়ায় খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহে আগ্রহ দেখায়নি কৃষকরা বলে দাবি করছেন খাদ্য বিভাগ। তবে, নির্ধারিত পরিমাণের প্রায় ৯৬% চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সুত্র জানায়, চলতি আমন মৌসুমে পার্বতীপুরের ৪টি খাদ্য গুদামে গেল বছরের ২৮ নভেম্বর ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। প্রতি কেজি ধান ৩৪ টাকা ও চাল ৪৭ টাকা বাজার দর নির্ধারণ করা হয়। সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ধান ১ হাজার ৭২০ মেট্রিক টন ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬২০ টন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি এ ধান-চাল অভিযান শেষ হবে। আজ রবিবার পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় দুই মাস ৫ দিন পার হলেও এক ছটাকও ধান সংগ্রহ করতে পারেনি। আমন মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের আর মাত্র ২৩ দিন বাকি। আজ রবিবার সকালে হাবড়া হাটে ধান বিক্রি করতে আসা মো: নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমান বাজারে প্রতিমণ ধান মোটা ১০১০ টাকা, গুটি স্বর্না ৯৫০ টাকা ও জিরা চিকন ২১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ও মোটা চাল প্রতিকেজি ৫১ থেকে ৫৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারি গুদামে ধান, চাল বিক্রি করতে হলে প্রতি কেজিতে লোকসান গুনতে হবে ৫ থেকে ৬ টাকা। মিলাররা সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করতে চুক্তিবদ্ধ হলেও বিগত ৫-৬ বছর ধরে লোকসান দিয়ে আসছেন। এ বছরও লোকসান জেনেও মিলার আগামীদিনের আশায় গুদামে চাল সরবরাহ করেছেন। উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়ন জাকেরগঞ্জ এলাকার কৃষক রমজান আলী বলেন, সরকারি দামের চেয়ে বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় তারা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন।
এ ব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো: মাসুদুর রহমান বলেন, ধান সংগ্রহ করা হয় কৃষকদের কাছ থেকে। চেষ্টা করেও কৃষকের কাছ থেকে কোনো ধান সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। কারণ সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় কৃষক গুদামে ধান দিতে আগ্রহী নন বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, খাদ্য গুদামে প্রতিজন কৃষক ৩ মেট্রিক টন করে ধান বিক্রি করবেন। পার্বতীপুরে ২১ টি হাসকিং মিল ও ৮ অটোরাইস মিল মালিকদের কাছ থেকে তাদের চালের বরাদ্দ পেয়েছেন। তবে, আজ রবিবার দুপুর পর্যন্ত খাদ্যগুদামে এক ছটাক ধানও সংগৃহীত হয়নি। এ সময়ের মধ্যে ৯৬% চাল সংগ্রহ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।