
খানসামা প্রতিনিনিধি
গরুর মালিক শখ করে গরুটির নাম রেখেছেন ‘যুবরাজ’। শাহীওয়াল জাতের গরুটির ওজন ১৪ মণ। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা খামারপাড়া নেউলা গ্রামের খালপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. জাকারিয়া হাবিবের কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন গরুটি।
মো. জাকারিয়া হাবিবে আশা করছেন এবার কোরবানিতে পশুর হাট মাতাবে তার ‘যুবরাজ’ নামে এ গরুটি। বিশালকারের গরুটি নিয়ে এরইমধ্যে শুরু হয়েছে মাতামাতি। বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা দেখতে আসছেন, করছেন দর-দাম। দাম ভালো পেলে ‘যুবরাজ’ কে তুলে দেওয়া হবে ক্রেতার হাতে।
গতকাল শুক্রবার উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের নেউলা গ্রামের খালপাড়ায় আলহাজ আ. কুদ্দুস মাষ্টারের ছেলে সৌদি প্রবাসী মো. জাকারিয়া হাবিবের বাড়িতে গিয়ে দেখা মেলে এই যুবরাজের।
ইটের দেয়াল আর টিনের ছাউনি দেওয়া ঘরের এক পাশে ছিল বিশাল গরুটি। গরুটির ওজন ৫৬০ কেজি, দৈর্ঘ্য ৮ ফুট ৫ ইঞ্চি ও প্রস্থ ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি।
জানা যায়, প্রচণ্ড রোদ ও তাপ থাকায় গরুটিকে দিনের ২ বার গোসল করাতে হয়। গরুটির মাথার ওপর সব সময় ১টি ফ্যান চলে। পরিবারের লোকজন ও মালিক জাকারিয়া নিজেও যত্ন নেন।
গরু দেখতে আসা কয়েকজন বলেন, লোক মুখে শুনে যুবরাজ নামের গুরুটি দেখতে এসেছি।
স্থানীয় সফিকুল ইসলাম বলেন, পুরো উপজেলা যুবরাজের মতো গরু দেখা যায়নি। অনেকেই গরুটি দেখতে আসছে। ক্রেতারা দর কষাকষি করেন।
গরু ব্যবসায়ী নূর উদ্দিন জানান, আমি গরুটির কথা শুনেছি। অনেক বড় এই গরুটির ওজন নাকি ১৪ মণ হবে। খুর দ্রুত সময়ের মধ্যেই গরুটি দেখে দাম দর করবো।
গরুটির মালিক সৌদি প্রবাসী মো. জাকারিয়া হাবিব বলেন, আমরা যুবরাজকে সন্তানের মতোই লালন পালন করে তুলেছি। শাহীওয়াল জাতের এই গরুটিকে প্রতিদিন খড়, কাঁচা ঘাস, গমের ভূসি, খৈল, চিটা গুরসহ পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়ানো হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহায়তায় গরুটির পরিচর্যা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত গরমে যাতে গরুটি অসুস্থ হয়ে না পড়ে সে জন্য ঘরের মধ্যে সারাক্ষণ ফ্যান চালানো হয়। কোরবানির ঈদে গরুটি বিক্রি করতে চাই। বর্তমানে গো-খাদ্য দাম বেশি হওয়ায় দাম বেশি চাচ্ছি। যুবরাজকে বিক্রির জন্য ১০ লাখ টাকা দাম হাঁকিয়েছি। তবে দামাদামি করে কম হলেও বিক্রি করে দেব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রতন কুমার ঘোষ বলেন, সৌদি প্রবাসী সৌখিন খামারি প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে একটি সুন্দর রোগবালাই মুক্ত বিশাল ষাঁড়টি লালন-পালন করেছেন। আমি আশা করছি কোরবানীতে তিনি ভালো দামে গরুটি বিক্রি করতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, এবার উপজেলায় খামারিরা ঈদের জন্য প্রায় ১৬ হাজার গরু প্রস্তুত করেছেন। উপজেলায় ১১ হাজার গরুর চাহিদা রয়েছে। বাকি সাড়ে চার হাজার গরু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করতে পারব।